Ticker

6/recent/ticker-posts

Ads

খেজুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

খেজুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ 

খেজুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

খেজুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ


খেজুর অত্যন্ত সুস্বাদু ও বেশ পরিচিত একটি ফল।খেজুরের মধ্যে রয়েছে ফ্রুকটোজ ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। খেজুর বিভিন্ন ধরণের রয়েছে। যেমন: খুরমা খেজুর, সাফাওয়ি খেজুর, মুসকানি খেজুর, খালাস খেজুর ইত্যাদি। 

খেজুর খাওয়ার ফলে রক্তের মধ্যে শর্করা পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ও চিনির বিকল্প হিসেবে খেজুরকে ধরে নেওয়া হয়। খেজুর খাওয়ার ফলে শক্তি বৃদ্ধি পায় ও খেজুর খাওয়ার সাথে সাথে ক্লান্তিকর ভাব দূর করে দেয়। তাই, খেজুুুুুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ জানা জরুরি।

খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি। যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে ২৮২ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। ১টি খেজুরের ওজন প্রায় ৭.৫০ গ্রাম। 

সুতরাং, চারটি বা ৩০ গ্রাম খেজুরে ৯০ ক্যালোরি,১ গ্রাম প্রোটিন,২.৮ গ্রাম ফাইবার,১৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং খেজুরের মধ্যে রয়েছে আরও অনেক বেশি পুষ্টি উপাদান। এই উপাদানগুলো শরীরে জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


খেজুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ:

১। মাথা ঠান্ডা রাখে
সবসময় মাথা ঠান্ডা রাখা খেজুরের সবচেয়ে বড় গুণ। আবার খেজুর ক্লান্ত শরীরকে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির জোগান দেয় এবং শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে।
 
২। শিশুদের রোগ-বালাই
খেজুর শিশুদের বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে রক্ষা করে।যেমন:শিশুদের ডায়রিয়া রোগে সহায়তা করে, দাঁতের মাড়ি শক্ত করে।
 
৩। মায়ের বুকের দুধ
শিশুদের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সুস্বাদু ও সমৃদ্ধ খাবার হলো খেজুর। খেজুর মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়। যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশিই বাড়িয়ে দেয়।
 
৪। মুটিয়ে যাওয়া জনিত রোধ
মাএ চার-ছযটা খেজুর ক্ষুধার ব্যাথা বা তীব্রতা একেবারেই কমিয়ে দেয়। ফলে, পাকস্থলীতে কম বা অল্প খাবার গ্রহণে সহায়তা করে । আবার শরীরের প্রয়োজনীয় সব শকর্রার ঘাটতি পূরণ করে খেজুর। খেজুর খাওয়ার ফলে বদহজম অনেকটাই দূর করে দেয়।
 
৫। দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং সেই সাথে রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে।
 
৬। হাড় গঠন
হাড় গঠনে সহায়তা করে ক্যালসিয়াম। এই ক্যালসিয়াম প্রচুর পরিমাণে খেজুরে মধ্যে পাওয়া যায়। খেজুর খাওয়ার ফলে হাড় অনেক বেশিই মজবুত থাকে। তাই, খেজুর প্রতিদিন খাওয়া উচিত।
 
৭। ত্বককে ফ্রেশ রাখে
আমাদের ত্বক কুচকে বা কালো হয়ে যায় অনেক সময়। যা দৈনন্দিন জীবন-যাপনে সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই, প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ভাবে খেজুর খেতে হবে। তাহলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। 
কেননা খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি। যা ত্বকের জন্য খুবই বেশী উপকারী।

 
৮। অন্ত্রের গোলযোগ
খেজুর অন্ত্রের কৃমি ও ক্ষতিকর পরজীবী প্রতিরোধ করতে পারে। অন্ত্রের মধ্যে উপকারী ও শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে পারে। যার ফলে শরীর সুস্থ-সবল থাকে।

৯। দুর্বল হৃদপিণ্ড
খেজুর দূর্বল হৃদপিণ্ডকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করে। তাই, খেজুরকে হৃদপিণ্ডের নিরাপদ ওষুধ বলা হয়।
 
১০। রক্তস্বল্পতা দূর করে
রক্তস্বল্পতা দূর করতে খেজুর অন্ত্যত উপকারী একটা ফল। খেজুর থেকে আয়রণ পাওয়া যায়। যা সুস্থ-সবল মানুষের আয়রণের ১১ ভাগ খেজুর থেকে পাওয়া যায়। তাই, খেজুর আমাদের রক্তস্বল্পতা দূর করে দেয় ও শরীরকে সুস্থ রাখে।

১১। সংক্রমণ রোধ
যকৃতের সংক্রমণে খেজুর অনেক বেশিই উপকারী। এ ছাড়াও গলাব্যথা, শরীরব্যথা এবং জ্বর, সর্দি ও বিভিন্ন ধরণের রোগ-বালাই থেকে রক্ষা করে। আবার, খেজুর পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে এবং সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

১২। কোষ্ঠকাঠিন্য
খেজুরের আছে এমন সব পুষ্টিগুণ বা পুষ্টি রয়েছে, যা খাদ্য পরিপাকে সহযোগিতা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ হলে রাতে খেজুর ভিজিয়ে রাখা এবং তার পানি সকালে পান করা। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
 
১৩। ক্যান্সার থেকে রক্ষা
ক্যান্সার সবচেয়ে ভয়াবহ একটি রোগ। এ রোগের ওষুধ এখনো বের হয় নাই। কিন্তু সাবধানতা ও সচেতন হলে এ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাই খেজুর খেলে ক্যান্সার থেকে মুক্তি কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়। 

ক্যাভিটি ও লাংস ক্যান্সার থেকে খেজুর আমাদের শরীরকে দূরে রাখে। সুতরাং, ক্যান্সার রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে খেজুর খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

১৪। হজমশক্তি ও রূচি বাড়ায়
খেজুর রুচি বাড়াতে সাহায্যে করে। যাদের খাওয়ার রুচি একেবারেই নেই, তাদেরকে প্রতিদিন খেজুর খেতে দিলে রুচি অনেকগুণ বেড়ে যায়। স্যলুবল ও ইনস্যলুবল ফাইবার, বিভিন্ন ধরণের অ্যামিনো এসিড যা খেজুরের মধ্য রয়েছে। যা শরীরের খাদ্য হজমে বা পরিপাকে সহায়তা করে।

১৫। শরীররে শক্তি জোগায়
শুকনো খেজুরের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও প্রোটিন। শুকনো খেজুরের প্রায় ৮০ ভাগই চিনি(sugar)। গ্লুকোজ এর বিকল্প ধারা হিসেবে খেজুরকে ধরা হয়। যা রক্ত সঞ্চালনে ও শরীরকে সুস্থ-সবল রাখতে সাহায্য করে। তাই, খেজুরকে মরুভূমির গ্লুকোজ বলা হয়ে থাকে।

 

খেজুর খাওয়ার সাবধানতা:

১. মাথা ব্যাথা বা মাইগ্রেন সমস্যা যাদের আছে, তাদের খেজুর না খাওয়াই উওম। কারণ ছোট মিষ্টি খেজুরে 'টিরামিন' নামক যে পদার্থ থাকে, তা মাথা ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।

২. ডিপ্রশনে ভুগলে খেজুর না খাওয়াই ভালো। কারণ- উচ্চ রক্তচাপ বা হাই পেশার বেড়ে  যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৩. দেহে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকলে খেজুর সর্তকতার সহিত খাওয়া।

৪. ডায়াবেটিস রোগ বা সমস্যা যদি কারো থাকে, তাহলে খেজুর খাওয়ার পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা।

সুতরাং,খেজুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ অনেক। তাই, নিয়মিত খেজুর খাওয়া। এতে শরীর সুস্থ থাকে।

Post a Comment

0 Comments