Ticker

6/recent/ticker-posts

Ads

কানে শো শো শব্দ করার কারণ ও প্রতিকার

কান মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কান ছাড়া কোনো শব্দ বা আওয়াজ শুনতে পারি না। কিন্তু কানে কোনো সমস্যা হলে শরীর অস্বস্তিকর লাগে। তেমনিভাবে কানের মধ্যে শো শো শব্দ করা। এটি একটি অস্বস্তিকর বিষয়।


কানে শো শো শব্দ করার কারণ ও প্রতিকার

কানে শো শো শব্দ করার কারণ ও প্রতিকার


কানে শো শো শব্দ করে, এটি অনেক কারণে হতে পারে। এই সমস্যাটি যেকোন বয়সের মানুষের হতে পারে। কানে শো শো শব্দ বা আওয়াজ হঠাৎ করে আসে, আবার কারো কারো ক্ষেএে শব্দ তাৎক্ষণিকভাবে চলে যায়।
 

কিন্তু এই সমস্যাটি স্থায়ীভাবে থেকে যায় অনেকের মধ্যে। ফলে মাথা ঘুরা,কান বদ্ধ হওয়া,কানে কম শোনা ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। আবার ব্যথা ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যাও সৃষ্টি করে।

বাইরের কোনো আওয়াজ ছাড়া কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ, শো শো, ঝিঁ ঝিঁ, খড় খড়, বেলের শব্দ ইত্যাদি অনবরত বা অনরগল করতে থাকে, তখন এ ধরণের সমস্যাকে বলা হয় টিনিটাস রোগ। টিনিটাস রোগটির উৎপত্তি হলো মস্তিষ্কের মধ্যে।

মস্তিষ্কের শব্দতরঙ্গ কোনো নার্ভের সমস্যা হলে টিনিটাস রোগ হয়। পৃথিবীতে প্রতি একশ জন মধ্যে বিশ জন টিনিটাস রোগে আক্রান্ত। এক জরিপে দেখা গেছে যে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ছয় মিলিয়ন মানুষ টিনেটাসে আক্রান্ত নারীদের তুলনায় পুরুষরা এ রোগে আক্রান্ত হয় বেশি।

কানে শো শো শব্দ কি?

কোন বাহ্যিক উৎস ছাড়াই একটি বা দুটি কানেই অস্বাভাবিক একপ্রকার শো শো শব্দ অথবা গুঞ্জনের আওয়াজ হওয়ার ঘটনাকে বলে কানে শো শো শব্দ, এই উপসর্গটিকে ডাক্তারি পরিভাষায় টিনিটাস বলা হয়। 

এটি হতে পারে গর্জনের মতো শব্দ, বা টিকটিক অথবা হিসহিস শব্দ। এটি মৃদু অথবা জোরালো শব্দ হতে পারে। তবে, টিনিটাস কোন রোগ নয় এবং বহু ব্যক্তি প্রায়ই এই সমস্যায় পড়ে থাকেন।

কানে শো শো শব্দ হয় কেন?

মাত্র ২টি কারণে কানের মধ্যে শো শো শব্দ করে। যথাঃ
১. কানের সমস্যার কারণে।
২. শারীরিক বা বার্ধক্যজনিত সমস্যা কারণে।

কানে শো শো শব্দ হওয়ার কারণ:

  • কানের মধ্যে ময়লা বা খৈল জমা হলে।
  • বহিঃকর্ণের কোনো কিছু বা কোনো বস্তু আটকে গেলে।
  • মধ্যঃকর্ণের মধ্যে কফ জমে গেলে।
  • কানের পর্দা ফেটে গেলে।
  • কানের মধ্যে ঘুতা-ঘুতি করলে।
  • কানের প্রদাহ বা জ্বালা-যন্তনা শুরু হলে।
  • মধ্যঃকর্ণের অস্থিগুলো নড়াচড়া বা নাড়াচাড়া না করলে।
  • অন্তঃকর্ণের মধ্যে চাপ বা শক্তি বৃদ্ধি করলে।
  • কানের জন্য ক্ষতিসাধন বা ক্ষতিকৃত ঔষধ দীর্ঘ-দিন ধরে খেলে।
  • শরীরের রক্ত কম বা রক্ত শূন্যতা দেখা দিলে।
  • শ্রবণ সংক্রান্ত স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট বা ড্যামেজ  হলে।
  • অন্যান্য সাধারণ শারীরিক সমস্যা কারণে।
  • ষাট্ট (৬০) ঊর্ধ্ব বয়স হলে।
  • উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন থাকলে।
  • মানসিক অস্থিরতা কারণে।
  • কিছু কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণের কারণে হতে পারে।
  • কান পাকার কারণে।
  • হাই-পার টেনশন ও ডায়াবেটিস কারণে।


কানে শো শো শব্দ হওয়ার লক্ষণ:

১. কানে কম শোনা বা কানে একেবারে কম শোনা।
২. কান বদ্ধ বা কান বদ্ধ লাগা লাগা ভাব।
৩. মাথা ঘোরা।
৪. শরীর অস্বাভাবিক বা অস্বস্তি ভাব অনুভাব করা। ফলে কোনো কাজের প্রতি অনিহা সৃষ্টি হয়।
৫. কানের সমস্যায় কারণে শরীরের মধ্যে অন্যান্য রোগ সৃষ্টি হয়।
৬. ওজন কমে যায়।

কানে শো শো শব্দের প্রতিকার ও চিকিৎসা:

১. কান অপরিষ্কার বা ময়লা কোনো কিছু দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত নয়।
২. প্রদাহ বা পর্দা ফেটে গেলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
৩. অনেক ক্ষেএে শল্য-চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
৪. টিনিটাস মাসকার বা শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করলে কানের 
শো শো শব্দ একেবারেই ভালো হয়ে যায়।
৫.ঔষধ প্রয়োগে কানে 
শো শো শব্দ কমে বা ভালো হয়ে যায়।
৬. ফিজিওথেরাপি করার ফলে কানের শো শো শব্দ বা টিনিটাস রোগ কমে যায়। ফিজিওথেরাপি কিছু ব্যয়ামের সমন্বয়ে গঠিত। যথাঃ
• এক কানে সমস্যা বা দুই কানে সমস্যা হলে কানের লতি ধরে টেনে রাখতে হবে। দিনে ৩০ থেকে ৪০ বার করতে হবে।
• হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে যে কানে এই সমস্যা সেই কানে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে চেপে রাখতে হবে।দিনে অন্তত ১০০-১৫০ বার করতে হবে।
• হাতের তালু দিয়ে কান ৪-৫ সেকেন্ড চেপে রাখতে হবে।
• কানের সামনে ও পিছনে দুই আঙ্গুল দিয়ে ১-২ মিনিট ম্যাসেজ করা।
• মাথার পিছনে উঁচু শক্ত হাড়ের নিচে দুই হাতের আঙ্গুল দিয়ে টেপিং করতে হবে। ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে ৭০-৮০ বার।
• দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে মাথা একপাশ থেকে অন্যপাশ করতে হবে। দিনে ১০-১৫ বার করতে হবে।
• ভিটামিন ও মিনারেল জাতীয় খাবার খেতে হবে।
• ভিটামিন -বি কমপ্লেস্ক জাতীয় খাবার প্রচুর পরিমানে খেতে হবে।
• পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।



কানে শো শো শব্দ পরিহার করার উপায়:

১. কাধ হয়ে কানের নিচে ধরে ঘুম আসা যাবে না।
২. কোলহলপূর্ণ জায়গা পরিহার করা।
৩. উচ্চস্বরে গান বা হেডফোন দিয়ে গান শুনা যাবে না।

সুতরাং, কানকে অবহেলা করা উচিত একেবারেই উচিত নয়। কারণ কানকে অবহেলা করলে কানের বিভিন্ন ধরণের রোগ হতে পারে। যা আমরা ও আপনার জন্য ক্ষতিকর। তাই, কানকে অবহেলা করা যাবে না।








Post a Comment

0 Comments