Ticker

6/recent/ticker-posts

Adsterra

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা:

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিত জেনে নিন

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা

সুন্দর ও সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবার হলো বাদাম (nuts)। বাদামের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ই, ফাইবার, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পটাশিয়াম এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি। যা শরীর ও ত্বকের জন্যও খুবই উপকারী। 

বাদাম খেতে বেশিরভাগ মানুষই পছন্দ করেন। কিন্তু বাদামের উপকারিতা পাশাপাশি বাদামের অপকারিতা বিদ্যামান আছে। তাই, আজ বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

1. বাদাম(nuts)

2. বাদামের প্রকারভেদ

3. বাদামের উপকারিতা

4. বাদামের অপকারিতা

(1) বাদাম (nuts): 
বাদাম খুব জনপ্রিয় একটি স্নাক্স। কারণ-বাদামে সবগুলো গুণাবলীর উপস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। বাদামে উপস্থিত মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটগুলি পরিমাণ পর্যাপ্ত, যা হার্ট অ্যাটাকে (Heart-Atack) থেকে রক্ষা করে।

(2) বাদামের প্রকারভেদ: 
সাধারণত বাদামকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন:
১. কাঠ বাদাম
. কাজু বাদাম
. চীনা বাদাম
. পেস্তা বাদাম
বাদামের প্রকারভেদ এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. কাঠ বাদাম: 
পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় বাদাম হলো কাঠ বাদাম। কাঠ বাদামকে আমন্ড বাদামও বলা হয়ে থাকে। কাঠ বাদাম দেখতে গোলকৃতি বা গোলাকার। কাঠ বাদাম কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে এবং হজম শক্তি বাড়ায়।
www.jonny360.xyz

২.কাজু বাদাম:
কাজু বাদাম স্বাদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। কাজু বাদাম বিভিন্ন ধরণের রান্নায় বা তরকারিতে ব্যবহার করে থাকে। বিভিন্ন ধরণের রোগের ক্ষেএে কাজু বাদাম অনেক বেশিই উপকারি। কাজু বাদাম হার্টের রোগিদের জন্য খুবই ভালো।

কাজু বাদাম নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীর সুস্থ-সবল থাকে এবং ক্যান্সার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

বাদামের উপকারিতা

বাদামের উপকারিতা

৩. চীনা বাদাম: 
চীনা বাদাম পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় একটি বাদাম । চীনা বাদাম স্বাস্থ্যর জন্য খুবই উপকারী। চীনা বাদাম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী এবং চুল ও ত্বকের জন্যও উপকারী। এতে ৪.৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৭.১ গ্রাম প্রোটিন, ১৩.৬ গ্রাম ফ্যাট এবং ১৫৮ ক্যালরি রয়েছে।

বাদামের অপকারিতা
বাদামের অপকারিতা
.পেস্তা বাদাম
পেস্তা বাদাম একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বাদাম। এটি শরীর সুস্থ বা ফিট রাখতে সাহায্য করে। পেস্তা বাদামে মধ্য রয়েছে ৫.৮ গ্রাম প্রোটিন, ১৫৬ ক্যালরি, ২.৯ গ্রাম ফাইবার, ১২.৪ গ্রাম ফ্যাট ইত্যাদি । যা শরীরের বিভিন্ন অভাব একেবারেই দূর করে দেয়। পেস্তা বাদাম রক্তকে পরিশুদ্ধ করে। প্রতিদিন পেস্তা বাদাম খেলে রোগমুক্ত বা রোগমুক্তি জীবন পাওয়া যায়।

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা 

বাদামের খাওয়ার উপকারিতা:

1. ক্লান্তি দূর করে
শক্তি(Energy) অন্যতম ভালো উৎস হলো বাদাম। বাদাম খাওয়ার ফলে দেহের মধ্যে এনার্জি বা শক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে শরীর সুস্থ-সবল ও শক্তিশালী থাকে। প্রতিদিন বাদাম খেলে শরীরের সব ক্লান্তি একেবারে দূর হয়ে যায়। তাই নিয়মিত বাদাম খাওয়া।

2. মস্তিষ্ক বা ব্রেইনের পাওয়ার বৃদ্ধি করে
আমেরিকার অ্যান্ড্রস ইউনিভার্সিটি গবেষকদের এক জরিপে দেখা গেছে যে, বাদামে রয়েছে কগনিটিভ পাওয়ার (cognitive power) অর্থ্যাৎ সোজা সাপটা বলতে গেলে মস্তিষ্কের কার্য-ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

তাই, পরিক্ষার আগে ছেলে-মেয়েদের বাদাম খাওয়ানো উচিত। আবার বাদামে এক ধরনের তেল থাকে যা ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ, যা মেমোরি বা ব্রেইনের শক্তি বা পাওয়ার বৃদ্ধি করে। তাই, প্রতিদিন বাদাম খাওয়া উচিত।

3. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
বাদামে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম এর পরিমাণ একেবারেই বেশি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ একেবারেই কম থাকে। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ এক ভূমিকা পালন রাখে। সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি হলে দেহের রক্তের পরিমাণ তখন বেড়ে যায়।

তখনই রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে বাদামের কোনো বিকল্প নেই।

4. কোলেস্টেরল কমায়
প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। বাদামে উচ্চ পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন থাকার কারণে দ্রুত হজমের শক্তি বা পাওয়ায় বাড়ায়। তাই, যারা কোলেস্টেরল রোগে ভুগছেন তারা যেন নিয়মিত বাদাম খায়।

5. স্বাস্থ্যকর হৃদয়
বাদামের মধ্যে এক প্রকার অ্যাসিড আছে । এছাড়াও পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, তামা এবং লোহা ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় রাখে এবং হৃদরোগ আক্রান্ত থেকে রক্ষা করে।

6. মনকে ভালো রাখে
দিনে অন্ত্যত একবার হলেও বাদাম খান তাহলে শরীরের ক্যালরি বৃদ্ধি পাবে। বাদাম খাদ্যর মেজাজ বা মন হিসাবে পরিচিত। তাই মনের বিষণ্নতা ও রাগ দূর করে মনকে রিফ্রেশ(Refresh) করে তোলে।

7. ক্যান্সার রোগ থেকে বাঁচায়
বাদাম খাওয়ার ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Anti-oxcedent) ক্যান্সার রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর ফলে নানা সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আরও নানা উপকারে করে। যেমন: অ্যাক্সিডেটিভ(oxidative) ট্রেস কমিয়ে কোষেদের ক্ষত রোধ করে থাকে, ত্বকে এবং শরীরের বয়স কমাতেও অনেক বেশি সহায়তা করে।

8. ওজন নিয়ন্ত্রণে আনে
বাদাম খাওয়ার পর ক্ষুধা একেবারেই থাকে না। ফলে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া যায় না।বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া না গেলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

বাদামের অপকারিতা:

1.গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে (২০০ গ্রাম বা তার বেশি) খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। কারণ- বাদামের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে গ্যাস্ট্রিক হয়।

2. ওজন বাড়ায়
পরিমাণমতো না খেয়ে যদি তার চেয়ে বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা একেবারেই বেড়ে যায়। ফলে শরীর মোটা হয়ে যায়। তাই বাদাম পরিমাণমতো খাওয়াটা খুবই জরুরী।

3. অ্যালার্জির সমস্যা
বাদামের মধ্যেই প্রচুর পরিমাণে উপকারিতা বিদ্যমান আছে তবুও বাদাম খাওয়ার সময় নিয়ম-মাফিক না খেলে কিছু সাইড এফেক্ট দেখা যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো  অ্যালার্জির সমস্যা। কারণ- বাদামের মধ্যে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা  বেশি। 

তাই বাদাম খাওয়ার আগে সচেতন হওয়া উচিত, কোন কোন বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে। যেমন: চীনা বাদাম।

4. ওষুধের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি
বাদামের উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম ওষুধের কাজকর্মে বাধা বা সমস্যা সৃষ্টি করে। যার ফলে রোগ নির্মূল বা ভালো হতে অনেকটা দেরি হয়।

আশা করি যে, আপনারা বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা বিস্তারিতভাবে তথ্যও জেনে গেলেন। এখন আপনি শুধু সঠিক পরিমাণে বাদাম(nuts) খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

আরও পড়ুন। মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা






Post a Comment

4 Comments

Don't Share Any Link