Ticker

6/recent/ticker-posts

Adsterra

ব্যায়াম করার ১২টি গোপন উপকারিতা


ব্যায়াম করার ১২টি গোপন উপকারিতা
ব্যায়াম করার ১২টি গোপন উপকারিতা

ব্যায়ামের উপকারিতা কম-বেশি সবারই জানা আছে।  তবে নিয়ম মেনে ব্যায়াম করাটা অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা নিয়ম মেনে ব্যায়াম না করলে শরীরের উপকারিতা চেয়ে অপকারিতা হবে বেশি ।

কয়েক দিন ব্যায়াম করলেন আবার কয়েক দিন ব্যায়াম ছেড়ে দিলেন, এরকম ব্যায়াম করলে চলবে না। এতে শরীরের ক্ষতি হবে। তাই, সঠিক ভাবে ব্যায়াম করতে হবে।ব্যায়াম করার ফলে শরীরিক ও মানসিক অনেক উপকারিতা আসে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক জরিপে দেখা গেছে যে, নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম অভাবে শতকরা ১৭ ভাগ মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস আক্রান্ত হয়।আবার ১২ ভাগ মানুষ বৃদ্ধ বয়সে পড়ে যাওয়া জনিত সমস্যা ভোগে এবং ১০ ভাগ মানুষ স্তন ও অন্ত্রের ক্যান্সাররের জন্য দায়ী''।

"ফেলে রাখলে, মরচে পড়ে"  অথবা  "ব্যবহার কর, নয়তো ক্ষয় হবেই" এরকম বাক্য কম-বেশি সবাই শুনেছি। এই কথাগুলো শরীরের সাথে মিলে যায়। আপনি যদি শরীর একেবারেই ব্যবহার না করেন, তবুও ক্ষয় হবে। 

আপনার শরীর বা পেশিগুলো হয়ে পড়বে নিস্তেজ, থলথলে, দুর্বল। আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকঠাক ভাবে কাজ করবে না। ব্যয়াম না করার ফলে শরীরের জয়েন্টগুলো নরম বা অনমনীয় হয়ে পড়ে। "শরীর কাজে না লাগানো অনেকটা ধূমপান চেয়েও ক্ষতিকর"। 
চলুন জানা যাক, ব্যায়াম করার ১২টি গোপন উপকারিতা। 

ব্যায়াম করার উপকারিতা:

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো রোগ। প্রত্যকটা মানুষই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগমুক্ত থাকা প্রত্যেকটা মানুষই চায়। কিন্তু রোগমুক্ত থাকতে হলে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। শরীরের ফিটনেস ধরে রাখা ও ভালো স্বাস্থ্য জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা খুবই জরুরী। 

ব্যায়াম করার ফলে বড় বড় কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।যেমন : ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি। তাই শরীর সুস্থ রাখতে হলে ব্যায়াম কোনো বিকল্প নেই। ব্যায়াম করার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তাই, প্রতিনিয়ত ব্যায়াম করতে হবে।

২. সহনশক্তি বাড়ায়
ব্যায়াম করার ফলে মানসিক শক্তি বা মনবল বাড়াতে সাহায্য করে। ব্যায়াম করলে শরীরের শক্তি ব্যয় বা খরচ হয়। আপনি যদি কায়িক পরিশ্রমহীন,অলস, স্থুল,চর্বিযুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন।

আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাহলে কোনো ক্লান্তি ছাড়া যেকোনো পরিশ্রমের কাজ অনায়াসে করতে পারবেন। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে কঠিন কাজও সহজ বা সোজা মনে হবে।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে বাড়তি ওজন ও মেদ বা ভুড়ি ঝারিয়ে ফেলার জন্য ব্যায়াম এর কোন বিকল্প নেই। ব্যায়াম করলে ক্যালরি(Calori) খরচ হয়। ক্যালরি খরচ হওয়ার ফলে শরীরের ওজন কমে বা নিয়ন্ত্রণ যায়। 
ওজন কমার জন্য ব্যায়াম করাটা খুবই জরুরী। ওজন কমার জন্য যেকোনো ব্যায়াম করতে পারেন।

৪. মন চাঙ্গা
ব্যায়াম করার ফলে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক পদার্থ বের করে দেয়। এইসব রাসায়নিক উপাদান চিও প্রফুল্ল রাখে। চিও প্রফুল্ল পাশাপাশি চেহারার উজ্জ্বলতা ও লাবণ্য বাড়ায়। তাই মন চাঙ্গা বা মন ফুর ফুরে রাখতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

৫. নমনীয়তা বাড়ায়
শরীরে নমনীয়তা বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে শরীররে পুরো অংশ ফ্লেক্সিবল(Flexible) হয়ে যায়। শরীরে মাংসপেশি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফ্লেক্সিবল হওয়া জরুরী। 

ফলে শরীরের উপর আঘাত, ভাঙ্গা-মচকা সম্ভবনা কম থাকে।শরীরের উপর পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে। তাই,প্রতিদিন ব্যায়াম করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৬. শরীরকে শক্তিশালী করে
শরীরে মাংসপেশী গাঁথুনি যার যত ভালো, সে তত বেশিই শক্তিশালী। প্রতিটি পেশিকে আলাদা আলাদা ভাবে গড়ে তোলা যায় ব্যায়ামের মাধ্যমে। পুরো কাজটা নিজের উপর।কারণ- আপনার পেশিকে যেভাবে বানাতে চান,সেই ভাবে করতে পারবেন। তাই, শরীর শক্তিশালী করতে চাইলে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।
 
৭. কর্মস্পৃহা বাড়ায়
শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ না থাকলে যেকোন কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হবে। ব্যায়াম করার ফলে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবারহ করে। ফলে শরীরের সুস্থ স্পন্দন ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এটা আমাদের কর্মস্পৃহা বাড়ায়। তাই, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

৮. যৌন জীবনে উপকারিতা
যৌন জীবনের জন্য ব্যায়াম অন্ত্যত গুরুত্বপূর্ণ । কেননা দাম্পত্য জীবনে যৌন সুখ পুরো সংসারের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যাদের যৌন জীবনে অনাগ্রহ ও জড়তা কাটছে তাদের জন্য ব্যায়াম অন্ত্যত জরুরী। 

যৌন মিলনের স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধি, যৌনস্পৃহা বৃদ্ধি ও দাম্পত্য জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন সবই ব্যায়াম করার ফলে।
 
৯. নিদ্রায় উপকারিতা
ঘুম প্রত্যকটা মানুষের আসে। কারো কম বা করো বেশি। শরীর ক্লান্ত বা দুবর্ল থাকলে ঘুম ভালো হয়, এটা সবাই জানি। তাই ভালোভাবে ঘুমানোর জন্য ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। 

ব্যায়াম করায় শরীরের ক্যালরি ব্যয় হয়, যার ফলে শরীরে ক্লান্তি আসে। আর এই ক্লান্তি ফলে গভীর ও ভালো ঘুম বা নিদ্রা হয়। ব্যায়াম করার ফলে অনিদ্রা দূর করে ও অতি নিদ্রা দূর করে। তাই, প্রতিদিন কমপক্ষে এিশ(৩০) মিনিট ব্যায়াম করতে হবে।

১০. অবসর সময়ে বিনোদন
অবসর সময় কিংবা বন্ধের দিনগুলো আপনারা শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে সময় কাটান। ব্যায়াম শুধু খাটুনি বা কষ্টের কাজ নয়, তা হতে পারে বিনোদনের মাধ্যমে। যেমন: কোনো এক জায়গায় ভ্রমণ করা,শারীরিক পরিশ্রম সমৃদ্ধ খেলা করা (ফুটবল, সাঁতার, দৌড়ঝাঁপ, কাবাডি, গোল্লাছুট) ইত্যাদি। এগুলো বিনোদন মূলক কাজের মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখা যায়।

১১. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম বিরাট ভূমিকা পালন করে। দৈনিক ব্যায়াম করা ও হাঁটার ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা লাভ করে।ফলে অল্প চেষ্টায় শরীরের মধ্যে বেশি পরিমাণে রক্ত সরবারহ করা যায় এবং ধমনি উপর অনেকটা চাপ কমে। 

উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম থাকে। তার জন্যই প্রতিদিন ২০/৩০ মিনিট সকাল ও বিকাল ব্যায়াম ও হাঁটা-হাটি করা। এগুলো করার ফলে শরীরের এক ধাপ উন্নত হয়। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা, তাদের প্রতিদিন ব্যায়াম করা জরুরী।

১২. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
ডায়াবেটিস মারাত্মক একটি রোগ।আমরা সবাই জানি যে,হাঁটা-হাটি করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়। যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন,তাদের খাবারের পাশাপাশি সকাল ও বিকাল ব্যায়াম করা।

যেকোন ধরণের ব্যায়াম ডায়াবেটিস ঝুঁকি অনেকটা কমে দেয়। যাদের নাই তাদের যেকোনো ব্যায়াম করা উচিত। ফলে শরীর সুস্থ ও ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমে দেয়।

সুতরাং, উপরের ব্যায়ামের উপকারিতা ছাড়াও আরোও অনেক উপকারিতা রয়েছে। যেমন : স্টোক এর ঝুঁকি কমায়, বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, বাড়তি চর্বি কমায়, হৃদপিণ্ড ও রক্তনালির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। 

বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে দেহকে সুরক্ষিত রাখে। শরীর সুস্থ ও সবল রাখে। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে ও রোগ থেকে বাচঁতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।

Post a Comment

0 Comments