Ticker

6/recent/ticker-posts

Adsterra

আদার উপকারিতা ও অপকারিতা!

আদার উপকারিতা ও অপকারিতা:

আদার উপকারিতা ও অপকারিতা

আদা প্রকৃতির এক আশীর্বাদ স্বরুপ। আদার গুণাগুণে চিকিৎসকরা মুখরিত। আবার আদা শরীরের জন্য খুবই বেশি উপকারী এবং কোনো কোনো সময় আদা আমাদের শরীরে অপকারী বা ক্ষতি করে।

আদা (দক্ষিণ-পূর্ব) এশিয়ার স্থানীয় এক প্রজাতি এবং আদার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য গুণাগুণ ও উপকারিতা। শুকনো আদা বা ভেজা আদা দুভাবেই খাওয়া যায়। দৈনন্দিন জীবনে আদাকে আমরা মসলা হিসেবে ব্যবহার করি। 

আবার আদা খাদ্যশিল্পে বিভিন্ন রকম পানীয়, আচার, ঔষুধ, আতর ও সুগন্ধি ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

আদাতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল(Anti-bacterial) এজেন্ট, ফলে শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস বা নষ্ট করে। আরোও রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ক্রোমিয়াম ও জিঙ্ক, লবণ, পটাশিয়াম, ভোলাটাইল, অয়েল ইত্যাদি। 

দৈনন্দিন জীবনে আদাকে আমরা মসলা হিসেবে ব্যবহার করি। আবার আদা খাদ্যশিল্পের বিভিন্ন পানীয়, আচার, ঔষুধ ও সুগন্ধি ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

চলুন জানা যাক, আদার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং আদা খাওয়ার নিয়ম।

১০০ গ্রাম(gram) আদাতে যা যা আছে:

1. এনার্জি: ৮০ ক্যালরি
2. কার্বোহাইড্রেট: ১৭ গ্রাম
3. ফ্যাট: ০.৭৫ গ্রাম
4. পটাশিয়াম: ৪১৫ মিলিগ্রাম ও
5. ফসফরাস।

আদার উপকারিতা :

আদার উপকারিতা
আদার উপকারিতা 

১. জ্বর, সর্দি, কাশি,শরীরের যেকোন ব্যথা বা বেদনা ইত্যাদিতে হলে আদা খাবেন। আদা খেলে শরীরের প্রায় সব রোগ দূর হয়ে যায়। কারণ আদা মধ্যে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্যতা রক্ষা করে। তাই শীত সময়ে আদার চা খুবই বেশি উপকারী।

২. আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপা রোধে আদা রস খুবই উপকারী।

৩. গা গোলানো ও বমিভাব হলে কয়েক কুচি আদা খেলে এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৪. আদার রস রক্তশূন্যতা বা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

৫. অতিরিক্ত ওজন ঝরাতে বা কমাতে আদা সাহায্য বা সহযোগিতা করে। কারণ-আদার টিস্যু বেশি পরিমানে এনার্জি ব্যবহার করে। যার ফলে বেশি ক্যালরি বার্ন বা নষ্ট হয়।

৬. অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরা আদা ক্যান্সার রোগ ও হার্টের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহযোগিতা করে। আদা খাওয়ার ফলে ওভারিয়ান ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৭. আদা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে আদা খেলে এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

৮. আদার খাওয়ার ফলে গর্ভবতী বা অর্ন্তসত্বা মহিলাদের সকালে খারাপ লাগার সমস্যা দূর করে দেয়।

৯. আদার মাধ্যমে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির শোষণ করে শরীরের কার্য-ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে।

১০. পেটের অস্বস্তিদায়ক যন্ত্রণা সৃষ্টি হলে আদা  খেলে তা দূর হয়ে যায়।

১১.আদা পেট পরিষ্কার রাখতে সহযোগিতা করে।

১২. আদা খাওয়ার ফলে শরীরের অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা দূর করে দেয়।

১৩. আদাতে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক, যা শরীরের মধ্য রক্তপ্রবাহ বা রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করে।

১৪. নিয়মিত আদা খাওয়ার ফলে কোলন ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

১৫. আদা হলো প্রাকৃতিকভাবে পেইন কিলার যা ব্যথানাশক বা ব্যথা কমাতে কাজ করে থাকে। আবার বাতজনিত গাঁটে ও মাথাব্যথায় আদা বেশ কার্যকরী।

১৬. আদার মধ্যে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট রয়েছে। ফলে শরীরের মধ্যে রোগ-জীবাণু ধ্বংস বা নষ্ট করে দেয় এবং শরীরের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে।

১৭. যারা আর্থ্রাইটিসে রোগে ভুগছেন তারা সারা দিনের খাবারে অল্প পরিমাণে আদা রাখার চেষ্টা করুন। ফলে আর্থ্রাইটিসের রোগের সমস্যা আস্তে আস্তে দূর হয়ে যাবে। আবার আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে জিঞ্জার অয়েল অনেক অনেক উপকারী।

১৮. প্রতিদিন আদা খাওয়ার ফলে শরীরের হাড়ের জয়েন্টের ব্যথা একেবারেই দূর করে।

১৯. আদা ডায়াবেটিস ও রক্তের সুগার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদার নির্যাস বা রস শরীরের কোষের গ্লুকোজের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়। 

ফলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের দীর্ঘমেয়াদী সুগারের স্তর ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং কোষগুলোর মধ্যে ইনসুলিনের চলাচল ঠিক রাখে।

২০. ঋতু পরিবর্তনে ফলে অ্যাজমা, মাইগ্রেনের ইত্যাদির মতো বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই রকম সময়ে ডায়েট মধ্যে আদা রাখা খুবই ভালো। সর্দি-কাশির সময় আদা খেলে এই রোগগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

২১. আদার রস দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী বা মজবুত করে এবং দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস বা শেষ করে দেয়।

২২. আদায় থাকা অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট দেহের যেকোনো কাটাছেঁড়া বা ক্ষতস্থান দ্রুত পূরণ ও শুকাতে সহযোগিতা করে।

২৩. আদা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে উত্তেজিত করে রক্ত পরিসঞ্চালন বাড়ায় এবং রক্তনালীকে প্রসার করে বা বাড়ায়। ফলে শীতকালে শরীর অনেক বেশীই গরম থাকে।

২৪. আর্টারি ওয়ালে খারাপ কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমা হয়ে করোনারি হার্ট ডিজিজের সমস্যা সৃষ্টি হয়। তার ফলেই শরীরের রক্ত চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। আদা রক্ত চলাচলে এবং লিভার ও ব্লাডে কোলেস্টেরল অ্যাবজর্বশন কম রাখতে পুরোপুরি সাহযোগিতা করে।

২৫. আদা মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ই, ভিটামিন-এবি ও ভিটামিন-সি। যা চুল পড়া থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত কাঁচা আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে চুলের গোড়া মজবুত ও শক্তিশালী হয়।

২৬. দৈনন্দিন কাঁচা আদা চাবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করলে ত্বকের মধ্যে বয়সের ছাপ পড়বেই না এবং কারো ফুড পয়জনিং ও পেটের কোনো সমস্যা থাকলে আদার রস খেলে ভালো হয়ে যাবে।

২৭. আদা ত্বকের জন্য বেশীই উপকারী। নিয়মিত আদা খেলে ত্বকে মধ্যে ব্রণ ওঠা বন্ধ হয় এবং ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ এবং সুন্দর রাখে।

আরও পড়ুন। মুখের ব্রণ দূর করার সহজ উপায় 

বয়সের ছাপ দূর করার বিস্ময়কর উপায় 

২৮. গলা বা কন্ঠ পরিষ্কার ও ভালো রাখার জন্য আদা আর লবণ খুবই উপকারী।

২৯. হেঁচকির জন্য এককাপ ছাগলের দুধ + ১ চামচ আদার রস মিশিয়ে খেলে সঙ্গেই হেঁচকি সমস্যা কমে বা বন্ধ হয়ে যাবে।

৩০. শরীরের মধ্যে বসন্তগুটি হলে ১ চামচ আদার রস + ১ চামচ তুলসী পাতা রস মিশিয়ে খেলে বসন্তগুটি বের হয়ে যায়।

সুতরাং, আদার আরও অনেক বেশিই উপকারী দিক রয়েছে যা বলে শেষ হবে না । তাই আমাদের প্রতিদিন অল্প করে হলেও আদা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ । তবে কিছু ক্ষেত্রে এর জন্য সতর্কতা মেনে চলা উচিৎ।

আদার অপকারিতা:

আদার অপকারিতা
আদার অপকারিতা

আদা অনেক অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পরম বন্ধু, কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা শরীরের চরম শত্রু বটে। আদার গুণাগুণ জানার পরই যদি কেউ আদা খাওয়া শুরু করেন, তাহলে শরীরের বিপদ হতে পারে। তাই আদা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জানতে হবে।

শরীরের নানা রোগ উপশমে আদার উপকারিতা তুলনায় অনেক বেশিই ভালো। শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো পাশাপাশি, আর্থারাইটিস, মাইগ্রেন, হাঁশি-কাশি, ডায়েরিয়া, গ্যাস্টিক, কনস্টিপেশন, হার্টের সমস্যা, ডায়বেটিস, হাড়ের সমস্যা, হাই-কোলেস্টেরলের সমস্যা ইত্যাদি আদার মাধ্যমে ভালো হয়। 

রোগ প্রতিরোধে আদার উপকারিতা অপরিসীম। তাই, বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে আদা ব্যবহার করা হয়।

কাদেরকে আদা এড়িয়ে চলতে হবে?

১. অন্তঃসত্ত্বারা:
আদার উপকারিতা ও অপকারিতা

www.jonny360.xyz 


শরীরের মধ্যে আদা(ginger) কড়া উদ্দীপক হিসেবেই কাজ করে থাকে। সেজন্য অন্তঃসত্ত্বা নারী বা গর্ভবতী নারী আদা খেলে, প্রিম্যাচিওর শিশু জন্মের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। 
সেজন্যই গর্ভবতী মায়েদের আদা এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে, প্রেগন্যান্সির (Pregnancy) শেষ সপ্তাহ গুলোতে আদা কখনোই খাওয়া যাবে না।

২. যারা ওজন বাড়াতে চান:

আদা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
www.jonny360.xyz 

যারা রোগা বা চিকন হতে চান তাদের জন্য আদা অন্ত্যত উপকারী হলেও, যারা যারা শীর্ণকায়, ওজন বাড়াতে চান তাদের অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ-আদা খিদে কমায়, সেই সাথে শরীরে চর্বি গলাতে আদা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। 

সেজন্য যারা ওজন বাড়াতে চান, তারা যেন আদার ঘার-কাশেও না আসেন।

৩. উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যারা ঔষুধ খান:

www.jonny360.xyz
www.jonny360.xyz

আদা ডায়াবেটিসের লেভেল কমানোর কার্যকরী হলেও, যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জন্য নিয়মিত ঔষুধ খান, তাদের ডায়েটের চার্টে আদা রাখা যাবে না। অনুরুপভাবে, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও প্রযোজ্য। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যারা নিয়মিত ঔষুধ খান, তাদেরকেও আদাকে এড়িয়ে চলতে হবে।   


সর্তকতা:

১। গলস্টোনের (gallstone) সমস্যা থাকলে কত পরিমাণ আদা খাবেন, তা চিকিৎসকের থেকে জেনে নিন।

২। গর্ভাবস্থায় বা অর্ন্তসত্বা থাকাকালীন সারা দিনে ২৫০ গ্রামের বেশি আদা খাবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরী।

আদা খাওয়ার নিয়ম:

আদা খাওয়ার নিয়ম
আদা খাওয়ার নিয়ম 

১. আদায় সামান্য পরিমাণ জল বা পানি দিয়ে থেতলে নিতে হবে। আদার রস ও আদা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিবেন। চা তৈরীর জন্যে এই পানি ব্যবহার করুন।

২. আদা ছিলিয়ে, সামান্য একটু লেবুর রস মেশান। হজমশক্তি বাড়াতে এই মিশ্রণ খুব ভালো কাজে দেয়।

৩. সারা দিনই (৫০-৬০) গ্রাম আদা খেতে পারেন। পাউডার আদা(Powder ginger) আধ-চামচ করে দিনে ৩ বার খেতে পারেন। আদা চিকন বা সরু লম্বা করেই ছোট্ট ছোট্ট করে কেটে নিবেন। সামান্য পরিমাণে লবণ(salt), মরিচ, লেবুর রস ইত্যাদি মেশান।

৪. পানি ফুটিয়ে নিবেন। এইবার দুধ, মসলা, আদার রস, চা পাতা দিয়ে আরো একটু ফুটিয়ে নিবেন। কাপের মধ্যে চিনি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। উপরে সামান্য পরিমান এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে দিবেন।

৫. হজমের সাহায্য করার জন্যে আদা দিয়ে সিরাপ তৈরী করুন। জিরা গুঁড়ো, নুন, আদার রস, লেবুর রস,পানি একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ড (blande) করুন। তৈরী হয়ে যাবে আদার সিরাপ। সকাল বা রাতে খাবারের পরেই আদার সিরাপ খেতে পারেন।

৬. ভিনিগারে আদার টুকরো, লবণ, মরিচ,মসলা,লেবুর রস দিয়ে কিছু দিনের জন্য রাখুন। খাওয়ার সময় আচার হিসেবে খেতে পারেন আদার টুকরোটি।




Post a Comment

1 Comments

Don't Share Any Link