Ticker

6/recent/ticker-posts

Ads

মধুর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

মধুর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
মধুর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

মধু বা honey সেবনে রয়েছে অনেক অনেক উপকারিতা, মধু যেমন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে তেমনি রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে থাকে। মধু শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং প্রতিদিন মধু খেলে অসংখ্য রোগ-বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটা বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত হয়েছে।
আজকে আমরা মধুর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম, মধুর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানব। 

মধুর উপাদানসমূহ:

মধুতে প্রায়ই ৪৫ বা পঁয়তাল্লিশটি খাদ্য উপাদান আছে। ফুলে পরাগে মধু বা honey থাকে ২৪ থেকে ৩৮ শতাংশ glucose, ৩৪ থেকে ৪৪ শতাংশ fructose, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ sucrose, ৫ থেকে ১২ শতাংশ montoz, ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ শতাংশ এনকাইম।
মধুতে কোনো চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুর মধ্যে থাকে ২৮৮ ক্যালরি বা calories।

মধু খাওয়ার নিয়মাবলী:

মধু খাওয়ার নিয়মাবলী
মধু খাওয়ার নিয়মাবলী

মধু খেতে অনেক মিষ্টি। কিন্তু খেলেই হবে না,মধু খাওয়ার নিয়মও জানতে হবে। তাহলে জানা যাক, মধু খাওয়ার নিয়ম গুলো–

১. মধুর তাপমাএা ৪২° সেন্টিগ্রেডের উপরে হলে মধুর গুণ পরিবর্তন বা change হয়ে বিষাক্ত হয়ে যায়। তাই আপনি যখন গরম পানির সাথে মধু মেশাবেন বা চায়ের চিনির বিকল্প হিসেবে মধু ব্যবহার করলে, তখন খেয়াল রাখতে হবে তা যেন অতিরিক্ত গরম না হয়।

২. পানি বা চা হালকা ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন অর্থাৎ গরম পানি বা চা এর তাপমাত্রা ৪২° ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে থাকতে হবে। তাপমাএা ৪২° নিচে থাকলে চা বা পানি সাথে মধু মিশিয়ে পান করুন।

৩. কেউ কেউ ঘুম থেকে উঠেই গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে পান করেন, যা শরীর সুস্থ-সবল রাখে এবং শরীর থেকে toxins বের করে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু হালকা গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে পান করা উচিত।

৪. যাদের বেশি ওজন তারা হালকা গরম পানি সাথে লেবুর রস সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করবেন। ফলে প্রতিনিয়ত সকালে মিশ্রিত পানীয় পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। দীর্ঘ মেয়াদী ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

৫. মধুতে থাকা উপাদান গরম কোনো কিছুর সংস্পর্শে বিষাক্ত হয়ে যায়। মধু কখনোই গরম করা বা রান্নায় ব্যবহার করা উচিত নয়। মধু ঠান্ডা খাওয়াই ভালো। বাজার থেকে কিনে আনা মধু এমনি প্রক্রিয়াজাত করার সময় তাপের সংস্পর্শে আসে। 

বেশিরভাগই ক্ষেত্রে মধু প্লাস্টিকের কৌটায় বিক্রি হয়। ফলে মধুর গুণাগুণ এমনিতেই কমে যায়। তার ওপর কোনো কিছুতে গরম করে মিশিয়ে পান করলে কার্যকারিতা একেবারেই কমে যায়।

মধুর উপকারিতা:

মধুর উপকারিতা
মধুর উপকারিতা 
১. শক্তি বৃদ্ধি করে
শক্তি বৃদ্ধি করতে বা বাড়াতে মধু বা honey অন্যতম খাদ্য বা খাবার। তাপ ও শক্তির অন্যতম উৎস মধু। মধু দেহের তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ-সবল রাখে।


২. হজমে শক্তি বাড়ায়

মধুতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়ে যায়। কারণ, মধুতে যে dextrin থাকে, তা সরাসরি রক্তের মধ্যে প্রবেশ করে এবং তাড়াতাড়ি ভাবে ক্রিয়া করা শুরু করে। পেটরোগা ব্যক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মধু।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
মধুতে আছে ভিটামিন-বি-কমপ্লেক্স। মধু খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়। সকালে ১- চামচ খাঁটি মধু পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লতা একেবারেই দূর হয়ে যায়।

৪. রক্তশূন্যতায় দূর হয়
মধু বা honey রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে। ফলে শরীরে রক্তশূন্যতায় দূর করে দেয়। কারণ- এতে রয়েছে খুব বেশি পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, লৌহ ও কপার।

৫. ফুসফুস ও হাঁপানি সকল রোগ নিরাময়
মধু ফুসফুসের যাবতীয় রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। যদি অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগী নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেয়, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারবে। অনেকেই মনে করেন, ১ বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগীদের জন্য উপকারী।

৬. মধু নিদ্রার কাজে দেয়
মধু নিদ্রার ভালো একটি ওষুধ। রাতে ঘুমানোর আগেই ১ গ্লাস পানির সঙ্গে ২–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।

৭. যৌন দুর্বলতায় সহায়তা করে

যৌন দুর্বলতায়
যৌন দুর্বলতায়

পুরুষের মধ্যে যাদের যৌন দুর্বলতা আছে, তাঁরা নিয়মিত যদি মধু ও ছোলা মিশিয়ে খায়, তাহলে কয়েক সপ্তাহ পর পুরুষের যৌন দূর্বলতা দূর হয়ে যাবে।

৮. রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে
মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং শরীরের ভেতরে ও বাইরে যেকোন ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ রক্ষার জন্য ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে সবসময় রক্ষা করে।

৯. মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা কাজে করে
মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য মধু ব্যবহৃত করা হয়। মধু দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়-রোধ, দাঁতের পাথর জমাট বাঁধা কমায় এবং দাঁত পড়ে যাওয়া আটকায়। মধু রক্তনালিকে বড় করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য পুরোপুরি ভাবে রক্ষা করে। 

মুখের ঘায়ের ফলে গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত পূরণ করতে সাহায়তা করে ও সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে কুলি বা গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়ে যায়।

১০. পাকস্থলীর সুস্থ রাখে
মধু খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে এবং হজমের গোলমাল একেবারেই দূর করে। এর ব্যবহারে hydrochloric acid ক্ষরণ কমিয়ে দেয়, যা অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা ইত্যাদি দূর করে।

১১. শরীরে তাপ উৎপাদন করে
শীতের ঠান্ডায় মধু খাওয়ার ফলে শরীর গরম রাখে। ১/২ চা–চামচ মধু ১ গ্লাস ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর তাজা ও সুস্থ থাকে।

১২. পানিশূন্যতা দূর করে
ডায়রিয়া হলেই ১ লিটার পানির মধ্যে ৫০ মি.লি. মধু মিশিয়ে খেলে দেহের পানিশূন্যতা একেবারেি দূর হয়ে যায়।

১৩. উচ্চ রক্তচাপ কমায়
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে মধু খুবই উপকারী একটি উপদান। ২- চামচ মধুর সাথে ১- চামচ রসুনের রস মেশান। দিনে ২ বার মিশ্রণটি খান। মিশ্রণটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়। প্রতিদিন সকালে খাবার এক ঘণ্টা আগেই খাওয়া উচিত।

১৪. রক্ত পরিষ্কার করে

১ গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে ১-২ চামচ মধু ও ১- চামচ লেবুর রস মিশান। পেট খালি করার আগেই প্রতিদিন এই মিশ্রণটি খাবেন। মিশ্রণটি কা রক্ত পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং সব রক্তনালি  পরিষ্কার করে।

১৫. ওজন কমাতে সাহায্য করে
মধুর উপদানে কোনো চর্বি নেই। যার ফলে পেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, শরীরে চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে যায়।

১৬. রক্ত উৎপাদনে সাহায্য করে
মধু বা honey- তে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ রয়েছে। এই আয়রন রক্ত উৎপাদন করতে সাহায্য করে। আয়রন রক্তের উপাদান(RBC, WBC, platelets) অধিক কার্যকরী ও শক্তিশালী করে থাকে।

১৭. তারুণ্য বজায় রাখে
মধু(honey) তারুণ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মধু উপাদানে রয়েছে Anti-oxidant, যা শরীরের ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। মুখে মধ্যে ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে থাকে।

আরও পড়ুন। যৌবন ধরে রাখবে যে ১৫টি খাবার

১৮. হাড় ও দাঁত গঠনে সহায়তা করে
মধুর গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো ক্যালসিয়াম।মধুতে থাকা ক্যালসিয়াম দাঁতের, হাড়ের ও চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে এবং ভঙ্গুর দূর করে।

১৯. হৃদরোগে কার্যক্ষমতা বাড়ায
১ বা ২ চামচ মধু সাথে ১ চামচ মৌরির গুঁড়ো মিশ্রণ করে খেলে হৃদরোগের টনিক হিসেবে কাজ করে থাকে। এই মিশ্রণ কাওযার ফলে হৃদপেশিকে সবল ও সুস্থ রাখে এবং হৃদপেশির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

২০. হাঁপানি রোধে
১/২ গ্রাম গোলমরিচের গুঁড়ো সাথে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মিশাবেন। দিনে তিনবার করে এই মিশ্রণটি খান। মিশ্রণটি খাওয়ার ফলে হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

২১. দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
মধু চোখের জন্য খুবই উপকারী। মধুর সাথে গাজরের রস মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

২২. চেহারা সুন্দর করে
মেয়েদের রূপচর্চার জন্য মধু ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মধু খাওয়ার ফলে মুখের মসৃণতা বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়

২৩. গলার স্বরের পরিবর্তন
মধু খাওয়ার ফলে গলার স্বর সুন্দর ও মধুর হয়।তাই প্রতিদিন মধু খাওয়া।

২৪. আমাশয় ও পেটের পীড়া নিরাময়
পুরোনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানান জটিল রোগের উপকার করে থাকে।

২৫. প্রশান্তিদায়ক পানীয়
হালকা হালকা গরম দুধের সাথে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়।

২৬. ডায়রিয়া বা আমাশয় দূর করে
মধু ডায়রিয়া বা আমাশয় রোগ থেকে রক্ষা করে। তাই আমাশয়, ডায়রিয়া প্রবণতা আছে তাঁদের প্রতিদিন মধু সেবন করা।

২৭. অম্বলের সমস্যা দূর করে
খাঁটি বা pure মধু যদি সকালবেলা খান তাহলে অম্বলের সমস্যা দুর হয়ে যায় এবং মুখে টক বা তেঁতো ভাব দূর হয়ে যায়।

২৮. অরুচি ভাব দূর করে
অনেকেই আছেন বেশি খাবার খেতে পারেন না। অল্প খাবার খেয়েই হাঁপিয়ে ওঠেন বা খাবারের ইচ্ছা একেবারেই থাকে না। তাহলে প্রতিদিন মধু বা honey খেলে খাবরে অরুচি কমে যায় এবং খাবার চাহিদা বাড়ে।

২৯. বমিভাব দূর করে
কেউ কেউ খাবার দেখলেই বা সামান্য পরিমাণ খেলেই বমি বমি ভাব আসে। সেই সমস্যার সমাধানও করে মধু বা honey। মধু খাওয়ার ফলে বমি ভাব একেবারেই দূর হয়ে যায়।

৩০. মস্তিষ্কের বুদ্ধি বাড়ে
মধু যে শুধু আপনার শরীরের শক্তি বাড়ায়, তা কিন্তু না। ঘুমানোর আগে (১-২)চামচ মধু বা honey খেলে মস্তিষ্কের কাজ সঠিক ভাবে চালাতে সাহায্য করে। ফলে মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বা বুদ্ধি বাড়ে।

৩১. কোলেস্টেরল কমায়
মধু(honey) রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমার ফলে হার্ট- অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে যাওয়া।

৩২. শরীরের নানান ব্যথায়
আজকাল বেশি ভাগ মানুষেরই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা সৃষ্টি হয়। ছোট-বড় সবাই শরীরের গাঁটে বা জয়েন্টে ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার একটি সমস্যা লেগেই থাকে।  গাঁটে বা জয়েন্টে ব্যথার কারণ হলো শরীরের অবাঞ্ছিত রস।

অবাঞ্ছিত রসের কারণে বাতের ব্যথা সৃষ্টি হয়। সেই খারাপ রস শরীর থেকে অপসারিত করতে মধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩৩. গ্যাসট্রিক আলসার সমস্যা দূর করে 
গ্যাসট্রিক আলসারের সমস্যায় যারা রয়েছেন, তাঁরা প্রতিদিন মধু খাওয়ার ফলে গ্যাসট্রিক আলসার সমস্যা থেকে মুক্তি বা রক্ষা পাওয়া যায়।

৩৪. চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
মধু চোখের জন্য খুবই উপকারী। মধু দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে অনেক অনেক সাহায্য করে।

৩৫.  সর্দি-কাশি কমায়
সর্দি-কাশি কমাতে মধু খুবই উপকারী খাদ্য। শিশুদের বা বয়স্ক ব্যক্তিদের সর্দি-কাশি কমায় এবং ঠাণ্ডা লাগা কমাতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিনিয়ত মধু খাওয়া উচিত।

৩৬. চুলের স্বাস্থ্যে
চুলের যত্নেও জন্য মধু ব্যবহার করা হয়।
জলশূন্যতা বা আর্দ্রতার অভাব দূর করতে মধু খুবই সহায়তা করে। কারণ- মধুতে রয়েছে জলীয় উপাদান।

আরও পড়ুন। পাতলা চুল ঘন করার উপায় 

৩৭. ড্রেসিং করতে
ক্ষতস্থান পূরণ মধুর উপকারিতা আছে। ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করতে মধুর ব্যবহার করা হয়।

মধুর অপকারিতা:

মধুর অপকারিতা
মধুর অপকারিতা
মধু এমন আশ্চর্যকর বা বিস্ময়কর এক ওষধি গুণ সম্পন্ন উপাদান যা হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি স্বাদযুক্ত মধু পদার্থটির অনেক অনেক উপকার রয়েছে। 

পারিবারের মাধ্যমে জানতে পারি অসুস্থতা থেকে মুক্তি বা রক্ষা পেতে মধু কীভাবে আমাদের উপকার করে। লোভনীয় বা স্বাদযুক্ত স্বাদের জন্য এটি অল্পবয়সীরা কিংবা বৃদ্ধ ব্যক্তিরা সবাই পছন্দ করে। অনেকে আছে চা বা tea কিংবা দুধের সঙ্গে চিনির বিকল্প হিসেবে মধু বা honey ব্যবহার করে থাকে।

আপনি কী সত্যিই জানেন, গরম কিছুতে মধুর মিশ্রণ ভয়ানক ভাবে বিপদ ডেকে আনতে পারে? নিচে এমন কয়েকটি বিষয়বস্তু উল্লেখ করা হলো–

১। গরম পানিতে বা গরম দুধে ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে আমরা অনেকেই গরম পানির সাথে মধু বা honey মিশিয়ে পান করে থাকি। অনেকে মানুষ  বিশ্বাস করেন যে, এতে শরীর তাজা ও সুস্থ-সবল থাকে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। ধারণাটি একেবারেই ভুল। 

আপনি যদি নিয়মিত এই অভ্যাসে অভ্যস্ত থাকেন, তাহলে এখনি বন্ধ করা উচিত। আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলেন যে, এভাবে আপনি যা পান করছেন তা আসলেই বিষ। 

২। আসলে অনেকেই জানেন না যে, মধু কখনো গরম বা রান্না করা উচিত না। আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্রে এটি কখনোই সমর্থন করে না।

৩। আয়ুর্বেদীক শাস্ত্র অনুসারে, মধু বা honey তখনিই উপকারী যখন প্রাকৃতিক অবস্থায় এটা থাকে। অন্যদিকে, গরম পানি বা গরম দুধের সাথে মধু খেলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন করে। ফলে হজম প্রক্রিয়াসহ শরীরে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। 

গরম করা মধু আস্তে আস্তে শরীরের সাথে মিশে যায় এবং একসময় তা বিষে পরিণত হয়ে যায়।

৪। কীভাবে খাওয়া উচিত? মধু বহুবিধ উপকারী উপাদান। কিন্তু মধু সঠিক নিয়মে খাওয়া উচিত। সেক্ষেএে সর্বোত্তম বা সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হলো এটি সংগ্রহ করতে হবে মূল উৎস থেকে এবং খেতে হবে কাঁচাই। 

আপনি যদি ঘুমানোর আগে মধু বা honey দিয়ে ১ গ্লাস দুধ পান করতে চান, তাহলে নিশ্চিত হবেন গ্লাসের দুধ পুরোপুরি ঠাণ্ডা আছে কি-না।

৫। মধুর স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১৪০° ডিগ্রি কম, যা আপনার গরম দুধের গ্লাসের চেয়ে অনেক কম। আপনি যখনই গরম দুধে মধু মেশাবেন তখনই এর উপাদানগুলো বিষাক্ত হয়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। 

মধু কী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়তা করে?

মধুর নানাবিধ উপকারিতা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, মধু বা honey করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়তা করে। WHO বা world health organization থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, করোনা চিকিৎসায় মধুর কোনো উপকারিতা নেই।

২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে  মধু কী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়তা করে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় WHO- এর Director Michael Ryan. তিনি বলেন- করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় আদা বা মধুর কোনো কার্যকারীতা বা উপকারিতা নেই। তবে রোগের সময় এগুলি খেলে রোগীর আরাম থাকে এবং মনে জোর বৃদ্ধি করে।

আরও পড়ুন। 
খেজুরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা

মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা

দার উপকারিতা ও অপকারিতা

Post a Comment

3 Comments

  1. খুব ভালো হয়েছে ❤️❤️❤️

    ReplyDelete
  2. অসাধারণ ভাই ,, খুবই উপকারী পোস্ট ।
    Tips & Tricks

    ReplyDelete

Don't Share Any Link