Ticker

6/recent/ticker-posts

Ads

মুখের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়

মুখের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়
মুখের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়

ছেলে-মেয়েদের মুখের মধ্যে ব্রণ হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটা সমস্যা। লোমকূপের তলায় তৈল নিঃসরণ গ্রন্থি এবং মৃত কোষ বন্ধন সৃষ্টিতে এই সমস্যা হয়। মুখের ব্রণ বের হলেই ডাক্তার কাছে, কেউ কেউ দামি ক্রিম বা ঔষুধ ব্যবহার শুরু করেন। 

কিন্তু আপনি জানেন কি, বাড়িতে হাতের কাছেই রয়েছে এমন অনেক প্রাকৃতিক উপাদান, যার মাধ্যমে অতি সহজেই সমাধান করা যায় ব্রণের সমস্যা। বিভিন্ন রকমের ফল ও প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদানের প্যাক যা ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। 

চলুন জানা যাক, মুখের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়।

মুখের ব্রণ দূর করার উপায়:

ব্রণ দূর করার উপায় 

১. অ্যালভেরা ও হলুদ
অ্যালোভেরা মধ্য এনজাইম, Polysaccharides এবং পুষ্টি উপাদান দিয়ে ভরা। মুখের Anti-bacterial এবং Antifungal হিসেবেও কাজ করে। অ্যালোভেরা ত্বক বা skin বিষাক্ত উপাদান দূর একেবারেই করে এবং ত্বকের পুষ্টি জোগান দেয়, ত্বককে নরম বা smooth করে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে। 

হলুদের মধ্যে প্রদাহ প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে, যা ত্বকে ভালো রাখতে সহায়তা করে। ১ চামচ হলুদ, দুধ বা milk,মধু বা honey এবং ৩-৪ ফোঁটা গোলাপ জল মেশাবন। এখন মিশ্রণটি বা পেস্টটি অ্যালোভেরা জেলের (jel) সাথে মিশিয়ে আক্রান্ত ত্বকে ব্যবহার করবেন। ১০-১২ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

২. টক বা তেতোঁ জাতীয় ফলের প্যাক
কমলা, লেবুর মতো টক বা তেতোঁ জাতীয় ফলের মধ্যে অ্যাস্ট্রিনজেন উপাদান রয়েছে। যা ত্বকের ব্যাকট্রেরিয়া কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে। ঘরের মধ্য এই ফলের রস মুখে ভালো করে ঘষেঁ লাগানোর পর ১০-১২ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

৩. দুধ
চর্বি বা fat উপাদানের জন্য এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। তৈলাক্ত বা তেলের মতো ত্বকের মধ্যে দুধ ব্যবহার না করাই উওম। কারণ- তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করার ফলে ত্বক আরও তৈলাক্ত হয়ে যায়। 

৪. শসা
শসার নানান রকম গুণ রয়েছে। শসার গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ত্বক সুন্দর ও ময়েশ্চারাইজার করে। শসার মধ্যে ভিটামিন-এ, ভিটামিন- ডি ও ভিটামিন- ই রয়েছে। শসা ত্বকের জন্য খুবই ভালো কাজ করে।

শসা থেঁতো করে বা থেঁতলে মুখের মধ্যে লাগিয়ে রাখতে পারেন। মুখের মধ্য ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ  ধুয়ে নিন। আবার গোল গোল করে শসা কেঁটে নিয়ে অন্তর্ত একঘণ্টা বা দুইঘন্টা পানির মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। ভিজিয়ে রাখা পানি মুখ ধুঁয়ে নিতে পারেন অথবা খেয়ে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন। শসার উপকারিতা ও অপকারিতা 

৫. টুথপেস্ট 
টুথপেষ্ট ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করে দেয়। টুথপেস্ট ফেসপ্যাক মতো করে ব্যবহার করতে পারেন। টুথপেস্ট মুখের অতিরিক্ত তেল টেনে নেওয়ার ক্ষমতা আছে। ফলে তৈলাক্ত ত্বকের কারণে যাদের মুখে ব্রণ হয়, তারাই টুথপেস্ট ব্যবহার করে অনেক উপকার পেতে পারেন।

৬. গ্রিন টি 
গ্রিন টি খাওয়ার ফলে মুখের গোটা বা ব্রণ দূর করে দেয়। গ্রিন টি গরম পানিতে বানাবেন। তারপরই গ্রিন টি একেবারেই ঠাণ্ডা করে ত্বকের ব্রণ বা গোটার জায়গায় ব্যবহার করবেন। আবার ঠান্ডা গ্রিন টি তুলা দিয়ে ভিজিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। 

সেক্ষেত্রে ভালো করে ত্বকের ওপর মিশাতে সাহায্য করবে চায়ের মিশ্রণটি। গ্রিন টি ২০ মিনিট রাখার পর ধুয়ে নিন। 

৭. ডিম ও মধু 

ত্বক শুষ্ক এবং ব্রণ বা গোটা দূর করতে ডিম ও মধু প্যাকটি খুবই উপকারী। প্রথমে ডিমের সাদা অংশটুকু, ১- চামচ মধু এবং ১- চামচ অলিভ অয়েল নিয়ে ভালোভবে মিশ্রিত বা মিশ্রন করুন। তারপর মিশ্রণটি ত্বকে লাগান। 

ত্বকে লাগানো মিশ্রণটি ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের ব্রণ দূর হয়ে যায় এবং শুষ্কতা দূর হয়।

আরও পড়ুন: মধুর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

৮. রসুন
ব্রণ বা গোটার বড় শত্রু হলো রসুন। রসুন ব্যবহার করাও খুবই সহজ। ১-২ কোয়া রসুন দুই টুকরো করে কেটে নিন। এরপর ব্রণ বা গোটার জায়গায় রসটা লাগিয়ে নিন। রসুনের রসটা ৫ মিনিট পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

৯. লেবু রস 
লেবুর রস তুলায় নিয়ে আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে নিন। আবার লেবুর রসের সাথে দারু-চিনি মিশ্রণ তৈরি করুন, তারপর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে  ব্রণ বা গোটার উপর লাগিয়ে নিন। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর হালকা গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নেবেন। 

আরও পড়ুন। লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

১০. ওটমিল মাস্ক 
ওটমিল মাস্ক ব্রণ দূর করার জন্য স্ক্রাবের মতো কাজ করে থাকে। আধ কাপ সেদ্ধ করা ওটমিলের সাথে ১- চামচ অলিভ অয়েল মিশ্রণ করবেন। মিশ্রণটি ত্বকের আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। 

প্রথমে হাত দিয়ে মুছুন তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্রণ দূর করতে খুবই কার্যকরী উপায়।

১১. অ্যাসপিরিন 
ব্রণ বা গোটা দূর করতে অ্যাসপিরিন ঔষুধের কোনো জুড়ি নেই। এতে রয়েছে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড যা ব্রণ তাড়াতাড়ি শুকিয়ে দিতে সাহায্য করে। তিন-চারটা ট্যাবলেট গুঁড়ো করে নিন। তারপর গুঁড়োগুলো অল্প পানির সাথে মেশান। 
তারপর ভালো করে মেশাবেন, যাতে পেস্ট তৈরি হয়। 

রাতে ঘুমানোর আগে আক্রান্ত জায়গায় পেস্টটি লাগান। সকালে ঘুম থেকে উঠে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক খুব স্পর্শকাতর বা খারাপ হলে, ১০-১৫ মিনিট মিশ্রনটি লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে পারেন।

১২. বেকিং সোডা 

বেকিং সোডা রূপচর্চার জন্য বিভিন্নভাবেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বেকিং সোডা ব্রণ দূর করে চমৎকার ভাবে। বেকিং সোডার সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করবেন। পেস্টটি আক্রান্ত স্থানের মধ্য কিছুক্ষণ ঘষতে থাকুন। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নরম, সুন্দর,  মোলায়েন ত্বক কিছুদিনের মধ্য দেখতে পারবেন।

১৩. চন্দন

১ চা-চামচ চন্দন গুঁড়োর সাথে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে নিয়ে পেস্ট বানান। পেস্টটি ত্বকের মধ্যে লাগিয়ে রাখুন শুকানো না হওয়া পর্যন্ত। মুখের মধ্য পেস্টটি শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের ব্রণ দূর হবে সেই সাথে তৈলাক্ত ভাব কমে ত্বক উজ্জ্বল হবে।

সুতরাং, উপরের এইসব প্রাকৃতিক উপাদান ঘরোয়া ভাবে ব্যবহার করলে সহজেই মুখের ব্রণ দূর হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন। মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা

Post a Comment

1 Comments

Don't Share Any Link