Ticker

6/recent/ticker-posts

Ads

ব্রণের দাগ দূর করার সহজতম উপায়

ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ও ঘরোয়া উপায় :

শুধু কিশোর-কিশোরী নয়, আজকাল তরুণ- তরুণী, মধ্যবয়সী নারীদেরও ব্রণ ও ব্রণের দাগ এর সমস্যা হচ্ছে। ব্রণ (acne) দূর করার চেয়ে ব্রণের দাগ দূর করা খুবই কঠিন। প্রাকৃতিক উপাদান ও ডাক্তারের সহযোগিতায় মুখের ব্রণ দূর করা যায়।

তবে ব্রণের জেদি দাগগুলো থেকেই যায় মুখের মধ্যে। কিছুতেই এই দাগগুলো মিশে যেতে চায় না। কিন্তু প্রতিদিনের চেষ্টায় ও কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে দাগগুলো আস্তে আস্তে দূর করা সম্ভব। এসব উপাদান প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে ও আপনার ত্বক থেকে স্থায়ীভাবে দাগ দূর করবে।

ব্রণের দাগ দূর করার সহজতম উপায়
ব্রণের দাগ দূর করার সহজতম উপায়

ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজতম ও ঘরোয়া উপায় :

১. মুলতানি মাটি

ত্বকের তেলতেলে ভাবের কারণে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। এ সমস্যার সমাধান পেতে মুলতানি মাটি + পানি দিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগাতে পারেন। মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করতে সহায়তা করে।

২. শশার রস

শশার রস ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে খুবই কার্যকর। বাইরে থেকে এলে প্রথমেই শশার রস দিয়ে মুখ ধুতে পারেন। এতে মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর হয় ও ত্বকে সুন্দর রাখে।

৩. শশার রস, চালের গুঁড়া ও মধু

শশার রস মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করার পাশাপাশি মুখের ব্রণ(pimples) দূর করতে খুবই কার্যকর। এছাড়া স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে এর সাথে চালের গুঁড়া + মধু মিশিয়ে নিলেই হবে।

প্যাকটি সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে। blackheads and whiteheads একেবারেই দূর হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, ব্রণ থাকলে স্ক্রাব করা যাবে না।

৪. কাঁচা হলুদ ও চন্দনকাঠের গুঁড়ো

এই দুটো উপাদান ব্রণের জন্য খুবই কার্যকর। সমপরিমাণ বাটা কাঁচা হলুদ ও চন্দন কাঠের গুঁড়ো একত্রে করে তার সাথে পানি মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করতে হবে। 

পেষ্টটি এরপর ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। মিশ্রণটি শুধুমাত্র ব্রণেই দূর করে না বরং ব্রণের দাগ দূর করতেও সহযোগিতা করে। 

৫. আপেল ও মধু

ব্রণের দাগ দূর করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া উপায় হলো আপেল ও মধুর মিশ্রণ। প্রথমত, আপেলের পেষ্ট তৈরি করতে হবে তার সাথে ৪-৬ ফোঁটা মধু মিশাতে হবে। 

প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহিক ৪-৫ বার এই প্যাকটি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্যাকটি ত্বককে টানটান রাখে ও গায়ের রং হালকা করে।

আরও পড়ুন। মধুর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

৬. তুলসি পাতার রস

তুলসি পাতার রস ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে খুবই উপকারী। কারণ তুলসি পাতার মধ্যে আছে আয়ুবেদিক গুণ। শুধুমাত্র তুলসি পাতার রস ব্রণের জায়গায় লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধৌত করতে হবে।

৭. লেবুর রস, গোলাপ জল ও চন্দন কাঠের গুড়োঁ

প্রথমত চন্দন কাঠের গুড়োঁর সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করতে হবে। এরপর পেষ্টির সাথে ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশান। অনেকেরই গোলাপজল ত্বকের সাথে adjust হয় না। তারা সেক্ষেত্রে গোলাপ জলের পরিবর্তে মধু ব্যবহার করবেন। 

মিশ্রণটি আপনার ব্রণের দাগ দূর করতে পুরোপুরি সাহায্য করবে। সপ্তাহে ৩-৪ দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৮. দারুচিনি গুঁড়ার ও গোলাপজল

দারুচিনি গুঁড়ার সাথে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্টি ব্রণের ওপর লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ধুয়ে ফেলুন। ফলে ব্রণের সংক্রমণ, চুলকানি ও ব্যথা কমে যাবে।

. পেঁপে ও চালের গুঁড়ো

ব্রণ হবার অন্যতম কারণ হলো অপরিষ্কার ত্বক। তাই ত্বককে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সময়মত স্ক্রাবিং ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। 

পাকা পেঁপে চটকে নিন ১ কাপ এর সাথে মেশান ১ চামচ লেবুর রস ও প্রয়োজননুসারে চালের গুঁড়ো। মিশ্রণটি মুখের পাশাপাশি পুরো শরীরে লাগান। ২৫-৩০ মিনিট ভালোভাবে ম্যাসাজ করে গোসল করুন।

১০. নিম পাতা ও মুলতানি মাটি  

কিছু নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে পেস্ট করে নিন। পেস্টের মধ্যে ১ চামচ মুলতানি মাটি, কয়েকফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাকটি তৈরি করুন। প্যাকটি গাঢ় হলে তাহলে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে বেশ ২০ মিনিট রেখে দিন। প্যাকটি শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুন। নিম পাতার জাদুকরী উপকারিতা

শসার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

১১. পুদিনা পাতা

বেশি গরমের কারণে ত্বকে ফুসকুড়ি ও ব্রণ হয় সেগুলো দূর করতেও পুদিনা পাতা কার্যকারী এক উপাদান। টাটকা পুদিনা পাতা পেস্ট করে ব্রণের উপর লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। 

১২. অ্যালোভেরা জেল

দিনে অন্তত ২ বার হলেও অ্যালোভেরা জেল মুখের মধ্যে লাগান এবং ২০ মিনিট পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই জেলটি শুধুমাত্র ব্রণের দাগই দূর করবে না পাশাপাশি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও টানটান করবে।

১৩. স্পেশাল প্যাক

রক্ত চন্দনের পাউডার ও আনারসের খোসার গুঁড়ো মিশ্রণ করে নিন। মিশ্রণটির মধ্যে ২ চামচ দুধ বা টকদই দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটা নিয়মিত মুখের মধ্যে লাগান। ফলে ব্রণের দাগ দূর হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের জেল্লা বৃদ্ধি পাবে।

উপরের উপাদানগুলো ত্বকে ব্রণের দাগ দূর করার জন্য খুবই কার্যকারী ও উপকারী। আপনার ত্বকের ধরণ অনুসারে যে উপাদান বেশি ভালো হবে তা ব্যবহার করবেন এবং নিজের মূল্যবান ত্বকের যত্ন নিন, বেশি বেশি পানি পান করুন, সুস্থ-সুন্দর থাকুন।

ব্রণ ও ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি পেতে কিছু টিপস :

১। নিয়মিত ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

২। রাতের খাবারের পর ফল খান। ফলে আপনার ত্বককে সতেজ, সুন্দর ও মখমলে রাখবে। তেলযুক্ত বা ফাষ্ট ফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩। বাইরে থেকে আসলে মুখ face wash দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ফলে ত্বকে জমে থাকা ধূলো-বালি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে। 

৪। নখ দিয়ে ব্রণ খোটার বাজে অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। বুঝতে হবে যে এটা কোনো সমাধান না। এতে ব্রণের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকবে। ফলে ব্রণ (acne) লাল বর্ণের আকার ধারণ করবে বা ফেটে গিয়ে মুখে দাগের সৃষ্টি করবে। ব্রণ না যাওয়া পর্যন্ত মেক-আপ না ব্যবহার করাই ভালো হবে।

আরো পড়ুন। মুখের ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়

Post a Comment

1 Comments

Don't Share Any Link