Ticker

6/recent/ticker-posts

Ads

খুশকি দূর করার সহজ ও ঘরোয়া উপায়। (dandruff)

খুশকির সমস্যায় নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। খুশকি (dandruff) নিয়ে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী পর্যন্ত সবাইকে দেখা যায় উশখুশ করতে। চুলের খুশকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা অনেকের কাছেই যেন কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়! 

তবে নানা রকম প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ঘরে বসেই চুলের খুশকির লাগাম টেনে ধরতে পারেন আপনিও। আজকে খুশকি দূর করার সহজ ও ঘরোয়া উপায় আপনাদের জানাব।

খুশকি কেন হয়
খুশকি কেন হয় 
খুশকি (dandruff) কেন হয়?

বিভিন্ন কারণে চুলের মধ্যে খুশকি (dandruff) হতে পারে। খুশকি সবচাইতে সাধারণ কারণ হলো ত্বকের তৈলাক্ত ও চুলকানি মতো অবস্থা। 

এক প্রকার ছত্রাক আছে যার নাম হলো মেলাসেজিয়া বা melasia। সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাথার খুলিতে মেলাসেজিয়া ছত্রাক থাকে। মেলাসেজিয়া নতুন ত্বক কোষ জন্মাতে সহযোগিতা করে। কিন্তু ত্বকের ময়লা জমে তেল চিটচিটে অবস্থার মধ্যে এই ছত্রাক বিপদের মধ্যে ফেলতে পারে। 

এই অবস্থায় জন্মানো অতিরিক্ত ত্বকের কোষগুলো মারা যায় ও ঝরে পড়ে। মাথার ঝরে পড়া সাদা-হলদে রঙের খুশকি (dandruff) আসলে আমাদের ত্বকের মৃতকোষ। তবে মাথা ছাড়াও অন্যান্য জায়গায় খুশকি হতে পারে।
এছাড়াও শুষ্ক ত্বক খুশকির কারণ (causes of dandruff)। 

শুষ্ক ত্বকের ছোট ছোট মৃত কোষ খুশকি তৈরি করতে সাহায্য করে। তবে এই কারণে খুশকি হলে তা আপনি এমনিতেই জেনে জাবেন, কেননা মাথা ছাড়াও শরীরের অন্যান্য জায়গায় শুষ্ক ত্বকের নমুনা দেখা যাবে। 

তবে চুলে খুশকি (scurf) হলে খুবই দ্রুত প্রতিকার করা দরকার। না হলে এ সমস্যা থেকে চুলপড়াসহ নানা রকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। এখন ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে খুশকির প্রতিকারের (dandruff remedies) কিছু সহজ ও ঘরোয়া উপায় তুলে ধরা হলো।

খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায়
খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায় 

খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায় :

জলপাই তেল

খুশকির সমস্যা দূর করতে জলপাই তেল বা অলিভ অয়েলের ব্যবহার অনেক দেশে খুবই জনপ্রিয়। দৈনিক জলপাই তেল ব্যবহারে ফলে খুশকি কমে। কারণ জলপাই তেল প্রাকৃতিক ভাবেই খুবই ভালো ময়েশ্চারাইজার ও ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে বা ত্বকের আর্দ্রতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখতে সহায়তা করে।

কর্পূর ও নারকেল তেল

নারকেল তেল ও কর্পূ‌রের তেল বিভিন্ন ভেষজ গুণ রয়েছে। অর্ধেক কাপ নারকেল তেলের মধ্যে ১ চা-চামচ কর্পূ‌রের তেল মিশিযে নিয়ে বোতল বা পাত্রে রাখুন। খেয়াল রাখবেন যে, বোতল ও পাত্রের মুখ ভালো করে লাগানো থাকে, যাতে ভেতরে কোনো মতেই বাতাস না ঢোকে। 

শুষ্ক স্থানে এভাবে রাখা পাত্র বা বোতল থেকে কিছুটা তেল নিয়ে নিয়মিত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথায় দিন। মিনিট দশেক ঘষে ঘষে চুলের গোড়ায় মাখুন। সকালে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এভাবেই টানা ২ সপ্তাহ ব্যবহার করে উপকার পেলে আস্তে আস্তে এটা একদিন পরপরই মাখুন বা আরও কমিয়ে দিন।

গ্রিন টি

গ্রিন টি ব্যাক্টেরিয়া নিধরোক উপাদান এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই খুশকি বা dandruff কমাতে গ্রিন টি ব্যবহার করতে পারেন।
১ কাপ গরম পানির মধ্যে ২ ব্যাগ গ্রিন টি ১৫-২০ মিনিট ধরে ডুবিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা হয়ে আসলে তা মাথার ত্বকে ব্যবহার করে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে তা ভালো করে চুল ধুয়ে নিন।

বেকিং সোডা

আলতোভাবে মাথা ভিজিয়ে নিয়ে খানিকটা বেকিং সোডা পুরো মাথায় ভালো করে মেখে নিন। এরপর শ্যাম্পু না ব্যবহার করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ পদ্ধতিতে মাথার খুলিতে থাকা ছত্রাক পুরোপুরি দমন করে, কিন্তু প্রথমদিকে ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে। তবে অল্পদিনের মধ্যে ত্বকে স্বাভাবিক তৈলাক্ত অবস্থা ফিরে আসবে। এ সময়ে আপনি খুশকি বা scurf থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাবেন।

লেবুর রস

২ টেবিল-চামচ লেবুর রস নিয়ে সম্পূর্ণ মাথায় চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে মাখুন। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এবার ১ টেবিল-চামচ লেবুর রস নিয়ে ১ কাপ পানিতে মেশান। লেবুর রস মেশানো পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। খুশকি (furfures) না কমে যাওয়া পর্যন্ত নিয়মিত লেবুর রস মাখবেন।

মেথি-তেল

নারকেল তেলের সাথে মেথি মিশিয়ে কয়েকদিন বোতলে রেখে দিন। এরপর এই মেথি মেশানো তেল মাথায় ভালোভাবে মাখুন। রাতে মেখে নিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মাথার চুল ও ত্বক দুটোই ভালো থাকবে। খুশকি (dandruff) থেকেও পরিত্রাণ পাবেন।

লবণ

নিয়মিত কাজে লাগা লবণের অনেক ব্যবহারই হয়তো অনেকের অজানা। মাথায় হালকা বা অল্প করে লবণ ব্যবহার করে দেখুন। প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে লবণ খুশকি দূর করতে খুবই ভালো কাজ করবে। অল্প করে লবণ ব্যবহার করে তারপর শ্যাম্পু করলে শ্যাম্পুর পুরো সুযোগ-সুবিধা আপনি কাজে লাগাতে পারবেন। এছাড়াও চুলকাতে থাকা খুশকি ভরা মাথায় লবণ এর পদ্ধতি দারুণ কাজে দেবে আপনাকে।

টকদই

খুশকির সমস্যা সমাধান [dandruff solution] করতে টকদই অনেক বেশি উপকারী। টকদই মাথার ত্বকে ২০ মিনিট ভালোভাবে মালিশ করুন। আবার ২০ মিনিট রেখে ভালো করে ধুয়ে নিন। খুশকি একেবারেই দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত ২ বার এইভাবে চুলে টকদই ব্যবহার করুন।

পেঁয়াজের রস

২টা পেঁয়াজ মাঝারি কেটে ভালো করে বেটে এক মগ বা ৩০০-৪০০ মিলিলিটার পানির মধ্যে মিশিয়ে নিন। মাথায় এই পেঁয়াজের রস ভাল করে মাখিয়ে মিনিট দশেক মালিশ করুন। এরপর ৫ মিনিটের মতো রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২-৩ বার পেঁয়াজের রস মাথায় মাখলে খুশকি (furfures) সমস্যা সমাধান হবে।

রিঠা
চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে অনেকেই রিঠা ব্যবহার করেন। তবে খুশকির সমস্যা সমাধানে রিঠার জুড়ি মেলা ভার! রিঠা পাউডার বা রিঠা সিদ্ধ পানি চুলের ত্বকে লাগিয়ে ১ ঘন্টা রেখে তারপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ২ বার রিঠার পানি মাথায় মাখলে খুশকি দূর বা  [dandruff solution] হয়ে যাবে।

খুশকি দূর করতে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখবেন :

১. প্রতিদিন চুল আঁচড়াবেন। এতে খুশকি হবার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যাবে। 

২. পুষ্টিকর জাতীয খাবার খান। ফলে মাথার ত্বক ও চুল দুটোই ভালো থাকবে। 

৩. চুল প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। কারণ অপরিচ্ছন্ন চুলে খুশকি হয় বেশি। 

৪. অনেক চর্মরোগ আছে দেখতে খুশকির মতোই হয়। তাই মাথায় খুশকির (dandruff) পরিমাণ বেশি হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন বা পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন। পাতলা চুল ঘন করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় 

Post a Comment

0 Comments