Ticker

6/recent/ticker-posts

Adsterra

অ্যালোভেরার উপকারিতা ও অপকারিতা। Benefits and Side Effects of Aloe Vera in Bengali

অ্যালোভেরা আয়ুর্বেদিক ঔষুধ। এটি বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে করতে পুরোটাই সক্ষম । অ্যালোভেরা এর গুণাবলী জন্য খুবই জনপ্রিয়। অ্যালোভেরা ভারতের সাথে বহু দেশে এলোভেরা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। 

অ্যালোভেরা রস জাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতা কেটে জেল বের করা হয়। এটি অনেক মারাত্মক রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া এটি কুষ্ঠরোগও নিরাময় করে। আজকে আপনি অ্যালোভেরার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাবেন। 

অ্যালোভেরার পুষ্টি উপাদান:

অ্যালোভেরায় ভিটামিন এ, সি, ই, ফলিক অ্যাসিড এবং কোলিন সহ অল্প পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ থাকে। অ্যালোভেরায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা মুক্ত র‌্যাডিক্যাল এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

অ্যালোভেরার+উপকারিতা+ও+অপকারিতা
অ্যালোভেরার উপকারিতা ও অপকারিতা

অ্যালোভেরার উপকারিতা:

অর্শরোগে : অর্শরোগের স্বভাবধর্ম কোষ্ঠ-কাঠিন্য হওয়া। সেটা থাকুক আর নাই থাকুক, এক্ষেত্রে ঘৃতকুমারীর শাঁস ৫–৭ গ্রাম মাত্রায় একটু ঘি দিয়ে মিশিয়ে সকালে ও বিকালে ২ বার খেতে হবে। এর দ্বারা দাস্ত পরিষ্কার হবে এবং অর্শের অনেকউপকার হবে।

শক্তিবর্ধক কাজে : নিয়মিত ঘৃতকুমারীর রস সেবন শরীরের শক্তি যোগান সহ ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।যাদের শুক্রাণু পাতলা তাদের জন্য ২ চা-চামচ চটকানো ঘৃতকুমারী পাতার শাষ এবং ২ চা-চামচ চিনি মিশিয়ে শরবত করে ১৫–২০ দিন খেলে পাতলা শুক্রাণু অকারণে স্খলন একেবারে বন্ধ হবে।

প্রদাহ কমায় : ঘৃতকুমারীর রস হাড়ের সন্ধিকে সহজ করে এবং দেহে নতুন নতুন কোষ তৈরি করে। এছাড়াও হাড় এবং মাংশপেশির জোড়া গুলোকে মজবুত করে। সেইসাথে শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ প্রশমনে কাজ করে।

মেছতা নিরাময়ে : আপনার যদি মেছতার সমস্যা থাকে, তবে ঘৃতকুমারী পাতার রস পানির সাথে মিশিয়ে খান, দৈনিক ২ বার, প্রত্যেকবার ১০ মিলিলিটার। ঘৃতকুমারীর ১টি পাতা, মধু ও ছোট শসা মাস্ক করে মেছতার ওপর লাগিয়ে রাখুন।
উপকার অনেকটা পাবেন, এটি চামড়ার ফুস্কুড়িও প্রতিরোধ করতে পারে । নারীদের মুখে যদি মেছতা থাকে, তাহলে তাদের মেক-আপ না করা ভালো । কারণ মেক-আপ ক্রিম ত্বকের সূক্ষ্মরন্ধ্রের স্বাভাবিক রূপান্তর বাধা দেবে এবং মুখের মেছতা অনেকটাই গুরুতর হবে ।

অনিয়মিত এবং অস্বাভাবিক মাসিক হলে : ঘৃতকুমারী পাতার শাষকে ভালোভাবে চটকে চালুনীতে/ঝাকীতে পাতলা আবরণ করে ১ বার শুকানোর পর আরেকবার তার উপরেই পাতলা আবরণ লাগাতে হবে। 

এভাবে কয়েকবার লাগানোর পরে আমসত্বের মতোই তৈরি হবে। মাসিকের সময় ২/৩ গ্রাম পরিমাণ পানিতে ভিজিয়ে নিয়মিত সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : যারা দীর্ঘকাল ফিব্রো-মিয়া-লজিয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঘৃতকুমারীর রস দারুণভাবে কাজ করে। এটি দেহে সাদা ব্লাড সেল গঠন করে যা ভাইরাসের সাথে লড়াই করে।

মল পরিষ্কার করতে : যখন সমস্যা হবে তখন সকালে খালি পেটে টাটকা ঘৃতকুমারী পাতার শাষ ১৫/২০ গ্রামের মতো ঠান্ডা পানির সাথে পরিমাণমতো চিনি মিশিয়ে শরবত করে খেলে উপকার পাবেন।

দেহের ক্ষতিকর পদার্থের অপসারণ : দেহ থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঔষধির মতো কাজ করে। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন চাপে থাকি। এছাড়া চারপাশের দূষিত পরিবেশ এবং বিভিন্ন ফাস্ট-ফুড গ্রহণের কারণে প্রতিদিন পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করা দরকার। 

ঘৃতকুমারীর রস সেবনের ফলে শরীরে বিভিন্ন ভিটামিনের মিশ্রণ ও খনিজ পদার্থ তৈরি হয়, যা আমাদেরকে চাপমুক্ত রাখতে এবং শক্তি যোগাতে সহায়তা করে।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা ঘৃতকুমারী চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কন্ডিশনারের কাজ করে। এছাড়াও চুল পড়া এবং খুশকি প্রতিরোধ করতে অ্যালোভেরা দারুণভাবে কাজ করে। খুশকি দূর করতে মেহেদি পাতার সাথে অ্যালোভেরা মিশিয়ে লাগাতে পারেন চুলে।

মাথা যদি সব সময় গরম থাকে তাহলে পাতার শাঁস নিয়মিত ১ বার তালুতে নিয়ম করে লাগালে মাথা পুরোপুরি ঠাণ্ডা হয়৷ অ্যালোভেরার রস মাথার তালুতে ঘষে ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুল পড়া বন্ধ হবে আর নতুন চুল গজাবে।

শ্যাম্পু করার আগে ৩০ মিনিট অ্যালোভেরার রস পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। এতে চুল ঝরঝরে ও উজ্জ্বল হবে।

কন্ডিশনার হিসাবে ব্যবহার করার নিয়ম: ধারালো ছুরি দিয়ে গাছের পাতা থেকে পুরু সবুজ চামড়া সরিয়ে পাতার ভেতরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জেলি যতটা সম্ভব বের করে নিতে হবে।

ব্লেন্ডারে জেলিটি নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন, পানি দেবার কোন দরকার নেই। বের করার আগে দেখুন যেন সবটুকু জেলি খুব ভালো ভাবে ব্লেন্ড হয়। এবার মিশ্রণটি ভালো করে ছেঁকে নিন।

জেলি ছেঁকে নেবার পর যেন তা এর মধ্যের সাদা অংশ থেকে পুরোপুরি আলাদা হয়ে আসে। এবার চুলে শ্যাম্পুর পরে চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত এই জেলি ভালো করে ম্যাসাজ করে মেখে নিন। চাইলে অন্য কোন কন্ডিশনারের সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন। 

অ্যালোভেরা হজমি সহায়ক : প্রতিদিন ঘৃতকুমারীর রস পানে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে দেহের পরিপাকতন্ত্র সতেজ থাকে এবং কোষ্ঠ-কাঠিন্য একেবারেই দূর হয়।

হার্ট সুস্থ রাখতে অ্যালোভেরা : আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে অ্যালোভেরার জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরল মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রন করে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং রক্তে অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে, রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। ফলে দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ-সবল থাকে।

মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ অ্যালোভেরা অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সহায়তা করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়
বা উপমশ হয়।

দাঁতের যত্নে অ্যালোভেরা : অ্যালোভেরার জুস দাঁত আর মাড়ির ব্যথা দূর করে থাকে। দাঁতে কোনো ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। প্রতিদিন অ্যালোভেরার জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ওজন কমাতে অ্যালোভেরা : ওজন কমাতে অ্যালভেরা জুস খুবই কার্যকরী। ক্রনিক প্রদাহের কারণে শরীরের মধ্যে মেদ জমে। অ্যালোভেরা জুসের অ্যাণ্টি-ইনফ্লামেনটরী উপাদান, এই প্রদাহ রোধ করে ওজন হ্রাস করে থাকে। পুষ্টিবিদগণ এইসব কারণে ডায়েট লিস্টে অ্যালোভেরা জুস রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

হজমশক্তি বাড়াতে অ্যালোভেরা : হজমশক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা জুসের জুড়ি মেলা ভার। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করে, যা হজমশক্তি বাড়িয়ে থাকে। অ্যালোভেরা ডায়রিয়ার বিরুদ্ধেও অনেক ভালো কাজ করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে অ্যালোভেরা : অ্যালোভেরা জুস রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে রক্ত-সঞ্চালন বজায় রাখে। ডায়াবেটিসের শুরুর দিকে প্রতিদিন এর জুস খাওয়া গেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

সুতরাং, খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করুন, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে মধ্যে থাকবে।

aloe-vera-for-face-in-bengali
এলোভেরার উপকারিতা ও অপকারিতা 
ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা : ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। অ্যালোভেরার অ্যান্টি-ইনফ্লামেনটরী উপাদান ত্বকের ইনফেকশন দূর করে, ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন:

• ত্বকের যত্নে মসুর ডালের ব্যবহার

• চেহারা সুন্দর করার ঘরোয়া উপায়

• বয়সের ছাপ দূর করার উপায়

মুখের দূরগন্ধ দূর করতে অ্যালোভেরা :  অ্যালোভেরার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-সি, যা মুখের জীবাণু দূর করে মাড়ি ফোলা, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে। গবেষণাই দেখা গেছে, অ্যালোভেরার জেল মাউথ-ওয়াশ এর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

চুল সুন্দর করতে অ্যালোভেরা : অ্যালোভেরার গুনাগুন বলে শেষ করা যাই না, মাথায় খুশকি দূর করতে এর কোন তুলনা হয় না। এমনকি ঝলমল চুলের জন্যেও অ্যালোভেরা অনেক উপকারী। সুতরাং চুলের যত্নে অ্যালোভেরা আপনার নিত্যসংঙ্গী।

মুখের ঘা সারাতে অ্যালোভেরা : অনেকের মুখে ঘা হয়, মুখের ঘা দূর করতে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকরী। ঘায়ের জায়গায় এলোভেরার জেল লাগিয়ে দিলে মুখের ঘা ভালো হয়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে অ্যালোভেরা : গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যালো-ইমোডিন, যা স্তন ক্যান্সার ছড়ানো থেকে রোধ করে। এছাড়াও অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধে অ্যালোভেরা খুবই কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।

রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে : অ্যালোভেরার অনেক গুনাগুনের মধ্যে আর একটি হলো রক্তচাপ কমাতে। অ্যালোভেরার ঔষধি গুণ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও চিনির মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সহায়তা করে।

ক্ষতিকারক পদার্থ অপসারণ করতে : কিছু ক্ষতিকর পদার্থ দেহের মধ্যে প্রবেশ করে নানান ধরণের রোগের সৃষ্টি করতে পারে। ফলে তা দেহের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। এসকল ক্ষতিকর পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করা খুবই প্রয়োজন। 

অ্যালোভেরার রস পান করলে দেহের ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করতে পারে না। যদি প্রবেশ করেও ফেলে, তাহলে অ্যালোভেরার জুস পানে তা অপসারণ হতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরার জুসের গুণ অপরিসীম।

ক্ষত সারাতে সারাতে : অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ঔষধির কাজ করে থাকে। বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায় অ্যালোভেরা জুস। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিত্‍সায় ব্যবহার করা হয় অ্যালোভেরা।

ক্লান্তি দূর করতে দেহের দুর্বলতা দূর করতে অ্যালোভেরার জুসের গুন অনেক বেশি। আপনি যদি অ্যালোভেরার জুস দৈনিক পান করেন, তাহলে আপনার দেহের ক্লান্তি দূর হবে এবং দেহকে সতেজ ও সুন্দর রাখবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে : অ্যালোভেরার জুসের মধ্যে যে জেল থাকে তার অনেক গুণ। এই জেল প্রতিদিন পান করার ফলে পেটের সমস্যা দূর হবে। যদি সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করেন, তাহলে কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর হওয়া সম্ভব। 

এছাড়া অ্যালোভেরা জেলে প্রায় ২০ রকম অ্যামিনো-অ্যাসিড আছে, যা ইনফ্লামেশন এবং ব্যাকটেরিয়া রোধ করে হজম, বুক জ্বালা-পোড়া রোধ করে থাকে।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা : অ্যালোভেরার স্বচ্ছ প্রতিটি পাতায় রয়েছে ৯৬ শতাংশ পানি এবং ভিটামিন-এ, বি, সি ও ই। অ্যালোভেরার রস কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করতে অব্যর্থ। কার্বো-হাইড্রেট সমৃদ্ধ অ্যালোভেরা জেল ত্বকের কোষে পুষ্টির যোগান দেয় এবং একই সাথে ত্বকের টক্সিন দূর করে।

চীনা আর ব্রিটিশ আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় একবাক্যে স্বীকৃত হয়েছে অ্যালোভেরার উপকারিতা। অ্যালোভেরা খাওয়া অথবা ত্বকে লাগানো ২ ভাবেই আপনি উপকৃত হতে পারেন। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্রে অ্যালোভেরাকে ‘অলৌকিক ভেষজ’ বলে উল্লেখ করা হয়। কারণ এই একমাত্র ভেষজটি কাটাছেঁড়া, শুষ্ক ত্বক এবং পোড়া সারাতে সহায়তা করে।

দিল্লির চিকিৎসক ডা. দীপালি ভরদোয়াজ বলেন, ‘ভিটামিন-সি, ই এবং বিটা-ক্যারোটিন সৃমদ্ধ অ্যালোভেরা একদিকে যেমন পুষ্টিকর, তেমনি বার্ধক্য ধরে রাখতে সক্ষম। তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চরাইজারের কাজ করে অ্যালোভেরা। ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে ত্বককে রাখে প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল।

সকালে খালি পেটে ১ গ্লাস অ্যালোভেরার জুস পানের পরামর্শ চিকিৎসাবিদদের। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি এবং পাকস্থলির যেকোন সমস্যা সমাধানে কাজ করে। আপনি যদি ভেতর থেকে সুস্থ থাকেন, তাহলে বাহ্যিক সৌন্দর্য্য তো প্রকাশ পাবেই।

অ্যালোভেরায় বিদ্যামান প্রোটোলেটিক এনজাইম মাথার ত্বকের মরা কোষগুলোতে সারিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি কন্ডিশনার হিসেবেও সেরা এবং চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে। এটি চুলের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং তালুতে চুলকানি প্রতিরোধ করে। চুলকে কন্ডিশনিং করে খুশকি দূর করতেও কাজ করে ওষধি ভেষজটি।

অ্যালোভেরার উপকারিতা সম্পর্কে লেখক ড্যানি গেজ বলেন, ‘অ্যালোভেরায় রয়েছে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রোটিন-ক্যারাটিন। রয়েছে অ্যামাইনো-এসিড, অক্সিজেন, কার্বন এবং অল্প পরিমাণে হাইড্রোজেন এবং নাইট্রোজেন। অ্যালোভেরার উপাদানগুলো চুলের নমনীয়তা বাড়িয়ে এর ভঙ্গুরতা দূর করতে সাহায্য করে।’

অ্যালোভেরা প্যাক কমপক্ষে সপ্তাহে ১ বার কিংবা ১ দিন অন্তর আপনি ব্যবহার করতে পারেন। চারপাশের সবুজ অংশ ফেলে দিয়ে পিচ্ছিল উপাদান মাথায় ঘষে নিন। এটি চুলতে মজবুত, নমনীয় এবং প্রাণবন্ত করবেই।

অ্যালোভেরার+অপকারিতা
অ্যালোভেরার অপকারিতা 

অ্যালোভেরার অপকারিতা:

সব জিনিস এর উপকারিতার পাশপাশি কিছু অপকারিতা ও রয়েছে। চলুন জেনে নিই, অ্যালোভেরার অপকারিতা সম্পর্কে যা নিচে দেওয়া হলো……

  • অতিরিক্ত অ্যালোভেরা জুস গ্রহণে ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে।
  • রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
  • গর্ভধারণ ও স্তনদানে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
  • লিভার টক্সিসিটি তৈরি হয়।
  • কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • শরীরের ইলেকট্রো-লাইট ভারসাম্যহীন হয়।
  • পাকস্থলীর সমস্যা তৈরি হতে পারে।
  • পাইলস বা হেমোরয়েডসের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বা স্বাস্থ্যগত উপকারে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতেই পারেন। তবে অ্যালোভেরা কতটুকু গ্রহণ করবেন, এ বিষয়ে চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়াটাই বেটার।

আরও পড়ুন:

• মধুর উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

• মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা

Post a Comment

4 Comments

Don't Share Any Link